বিজ্ঞাপন
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান তার ছেলে আবরার ফাইয়াজ প্রশ্নের বয়স বাড়িয়ে ভুয়া জন্মসনদ ও জাল কাগজের মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের ছেলে আবরার ফাইয়াজ ওই একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির নিয়মিত ছাত্র। ইউনিয়ন পরিষদের রেকর্ড ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফাইয়াজের প্রকৃত জন্ম তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১১। সেই হিসেবে তার বর্তমান বয়স মাত্র ১৫ বছর। অথচ প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান তার ছেলের বয়স বাড়িয়ে ভুয়া সনদ তৈরি করেন এবং নিয়োগ বোর্ডের সকল সদস্যের সই জাল করে শিক্ষা বোর্ডে এমপিওভুক্তির আবেদনও পাঠিয়েছিলেন।
এই জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং পরমানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওয়াজেদ মোল্যা। তারা জানান, প্রকৃত বয়স গোপন করে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করা হয়েছিল।
ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগটি স্থগিত করা হয় এবং পরবর্তীতে শিক্ষা বোর্ড থেকে এই নিয়োগ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। জালিয়াতি ধরা পড়ার পর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাকে অফিশিয়াল শাস্তির আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা নিয়োগটি স্থগিত করি এবং শিক্ষা বোর্ড পরে তা বাতিল করে দেয়। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
একই স্কুলের ছাত্রকে দপ্তরি পদে নিয়োগ এবং সেই ছাত্রটি খোদ প্রধান শিক্ষকের নিজের ছেলে হওয়ায় এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার এমন অপচেষ্টাকে শিক্ষা খাতের জন্য চরম অবমাননাকর হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...