বিজ্ঞাপন
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে রূপাতলী হাউজিংয়ের ২২ নম্বর রোডের 'ছায়া নিকেতন' নামক একটি মেসে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রূপাতলী এলাকায় শিক্ষার্থী ইমন ও তমালের ভাড়া বাসায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রায়ই গোপন বৈঠকের উদ্দেশ্যে জড়ো হতেন। শুক্রবার রাতেও অনুরূপ একটি বৈঠক চলছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বাসাটি অবরুদ্ধ করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই মেসে তল্লাশি চালিয়ে চারজনকে থানা হেফাজতে নেয়।
পুলিশ হেফাজতে নেওয়া চারজন হলেন—বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান তমাল, একই বিভাগের আকরাম খান ইমন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা মহিদুর রহমান বাকী এবং রাকিব হাসান রনি। উল্লেখ্য, গত জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় সাক্ষী হিসেবে তমালের নাম রয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে মইদুর রহমান বাকি ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কৃত। অন্যদিকে, মাহমুদুল হাসান তমালের বিরুদ্ধে মাদক ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই মেসে দীর্ঘ দিন ধরে মাদক কারবার ও অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছিল। ইমনের বিরুদ্ধেও ইতিপূর্বে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযান প্রসঙ্গে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান জানান, ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ ও মহানগর ছাত্রলীগের সদস্যরা একত্রিত হয়ে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। মাদকের কারবার ও নাশকতার পরিকল্পনার খবর পেয়ে তারা পুলিশকে অবহিত করেন।
তবে অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান তমাল তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
বরিশাল কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) জানান, তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...