Logo Logo

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এক বিদ্যালয়ে দুই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক


Splash Image

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শালবাহান দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে একই সময়ে দুইজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টিকে আরও জটিল করেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধেই আগে থেকে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী কৃষি শিক্ষক সোহেল রানা কয়েকদিন আগে একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে তাকে একটি কক্ষে এসএসসি পরীক্ষার খাতার অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) শিটে কলম দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে নকল বাণিজ্য, পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়া এবং টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীকে পাস করিয়ে দেওয়ার মতো অভিযোগও ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব বিতর্কের পরও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং পরবর্তীতে তাকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অন্যদিকে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধেও ব্যাচেলর অব এডুকেশন (বিএড) সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে অতিরিক্ত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও মারধরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফলে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত এই দুই শিক্ষককে একই পদে দায়িত্ব দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজী বেগম গত ২৯ জুন তার শেষ কর্মদিবসে লিখিতভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সহকারী শিক্ষক মামুনুর রশিদের কাছে হস্তান্তর করেন। তবে পরদিন ৩০ জুন নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি পৃথক সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজুলেশনের মাধ্যমে সহকারী কৃষি শিক্ষক সোহেল রানাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে।

তবে সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনে সদস্য সচিব (প্রধান শিক্ষক)-এর স্বাক্ষর থাকার বিধান থাকলেও সেদিন কেবল নবগঠিত কমিটির সভাপতির স্বাক্ষরযুক্ত রেজুলেশনই দেখাতে সক্ষম হন সোহেল রানা। এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

দায়িত্ব পাওয়ার পর ৩০ জুন সোহেল রানা নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিজেকে বিদ্যালয়ের ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক’ পরিচয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। এরপর থেকেই বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

এ বিষয়ে সোহেল রানা বলেন, “আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি। বিষয়টি নিয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।” ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভিডিওটি সম্পাদিত। তার ভাষ্য, এটি ২০২৫ সালের ভিডিও এবং তখন তিনি পরীক্ষার খাতায় রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর মিলিয়ে দেখছিলেন। প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অপরদিকে সহকারী শিক্ষক মামুনুর রশিদ বলেন, “বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আমাকে লিখিতভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন। সেই দায়িত্বপত্রের ভিত্তিতেই আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।” তার অভিযোগ, লিখিতভাবে দায়িত্ব পাওয়ার পরও সোহেল রানা আগেভাগেই অবৈধভাবে রেজুলেশন তৈরি করে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসেছেন এবং জোরপূর্বক দায়িত্ব দখল করেছেন।

বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজী বেগম জানান, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সোহেল রানার দায়িত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ থাকায় তিনি বিধি অনুসারে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মামুনুর রশিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। পরে তিনি অ্যাডহক কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানতে পারেন। তার দাবি, অনুমোদিত অ্যাডহক কমিটির রেজুলেশনে যে সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে, তার দায়িত্বকালে ওই সূত্রে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে কোনো আবেদন পাঠানো হয়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শওকত আলী বলেন, তাদের দপ্তরে সোহেল রানাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার চিঠি এসেছে। একই সঙ্গে সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া ওএমআর শিট-সংক্রান্ত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোহেল রানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি এখনো ব্যাখ্যা না দিয়ে সময় চেয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাহমিদা সুলতানা বলেন, তিনি সম্প্রতি অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দুইজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক থাকার বিষয়টি বিস্তারিত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...