Logo Logo

পাইকগাছায় স্বাক্ষর জাল করে প্রধান শিক্ষক সমিতির নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্ত সম্পন্ন


Splash Image

খুলনার পাইকগাছায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে হওয়া অভিযোগের তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্ত চলাকালে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী তিনজনের মধ্যে দুজন জানান, তারা এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি। বরং তাদের স্বাক্ষর জাল করে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।


বিজ্ঞাপন


সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিনিধি হিসেবে তেরখাদা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এম এম মতিয়ার রহমান এবং খুলনা সদর থানা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম এই শেষ দফার তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্তে উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪ জন প্রধান শিক্ষক উপস্থিত হয়ে লিখিত ও মৌখিক সাক্ষ্য প্রদান করেন।

আদালতের এক রিট পিটিশন (নম্বর ৩২১৪/২০১৮)-এর রায় বাস্তবায়নের কথা বলে প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৬ হাজার ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। এ অর্থ উত্তোলনের সাথে উপজেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ রায়, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান এবং ৭৭ নম্বর পূর্ব কাসিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীম যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল।

তবে শুরু থেকেই এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্তরা। অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীম জানান, তিনি কর্মকালীন সময়ে বিদ্যালয়েই উপস্থিত ছিলেন এবং আর্থিক লেনদেনের এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ।

তদন্ত চলাকালে কথিত অভিযোগকারীদের বক্তব্য ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অভিযোগকারী হাফিজুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে স্পষ্ট জানান, তিনি কোথাও কোনো অভিযোগ দাখিল করেননি। তার স্বাক্ষর জাল করে এই অভিযোগ তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অপর অভিযোগকারী সুভাষ চন্দ্র মণ্ডল সশরীরে অনুপস্থিত থাকলেও মুঠোফোনে তদন্ত কর্মকর্তাদের জানান, অভিযোগে তিনি স্বাক্ষর করেননি। তার স্বাক্ষর জাল করে মধুখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল আক্তার মিথ্যা অভিযোগটি করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

বিষয়টি সম্পর্কে প্রধান শিক্ষক বাবুল আক্তার দাবি করেন, সংশ্লিষ্টদের অনুমতি নিয়েই অন্য একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান স্বাক্ষরগুলো করেছেন। এ বক্তব্যের পরপরই সেখানে উপস্থিত প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তারা জালিয়াতি ও মিথ্যা অভিযোগের পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি তোলেন।

পাইকগাছা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বলেন, ১০ম গ্রেড নিয়ে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। শিক্ষক সমিতির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতেই অন্য শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে এ ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগ সাজানো হয়েছে। তিনি স্বাক্ষর জালকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানোর ঘোষণা দেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে পূর্বে দুই দফা তদন্ত পরিচালিত হয়েছে এবং সোমবার শেষবারের মতো তথ্য ও সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলো। সংগৃহীত নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দ্রুতই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...