বিজ্ঞাপন
১০ দিনব্যাপী পরিচালিত এই মানবিক উদ্যোগে বান্দরবানের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৭৫৬টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। তারাচা, ছ্যাংগা, বটতলী, গোয়েলাখোলার, ফজর আলী পাড়া, ব্রিগেড এলাকা, মুসলিম পাড়া, চড়ুই পাড়া, ভরাখালি ও লাঙ্গিপাড়া সহ মোট ২১ টি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এই সহায়তার আওতায় আসে।
খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে গো আপ ফাউন্ডেশন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় ইউনিসেফ প্রদত্ত হাইজিন কিট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে দুর্গম ও প্রান্তিক বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে। এই কিটে রয়েছে স্যানিটারি ন্যাপকিন, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, সাবানসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী, পাশাপাশি সচেতনতামূলক লিফলেট ও স্টিকার। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি হ্রাসে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গো আপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমদ খান বলেন, "দেশের যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় গো আপ ফাউন্ডেশন সবসময় প্রস্তুত। আলহামদুলিল্লাহ, অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা ৭৫৬ টি পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় হাইজিন কিট বিতরণের মধ্য দিয়ে আমরা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পেরেছি। তবে আমাদের কাজ এখানেই থেমে নেই—শীঘ্রই একটি মেডিকেল ক্যাম্পেইন শুরু হবে এবং এরপরই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর টেকসই পুনর্বাসনে কাজ করবে গো আপ ফাউন্ডেশন। এই মানবিক সহযোগিতার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ইউনিসেফকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।"
ত্রাণ কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেওয়া বান্দরবানের স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী রোমানা বলেন, "পাহাড়ধস আর বন্যার পানিতে ঘরের চাল পর্যন্ত ডুবে যাওয়া মানুষগুলোর কষ্ট চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। নিজের এলাকার মানুষের এই দুঃসময়ে গো আপ ফাউন্ডেশনের হয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি পাচ্ছি। আমাদের এই লড়াই এখনই থামছে না।"
সংগঠনের আরেক স্বেচ্ছাসেবক আব্দুল জাহিদ বলেন, "দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছানো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু আমাদের টিমের তরুণদের মনোবল এবং সাধারণ মানুষের মুখের আকুতি আমাদের থামতে দেয়নি। দুর্যোগ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠপর্যায়ে এভাবেই কাজ করে যেতে চাই আমরা।
বর্তমানে বান্দরবানে কাজ করছে গো আপ ফাউন্ডেশনের টিম। যেসব এলাকায় এখনো বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে, বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে সেসব এলাকাতেও সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আশ্বস্ত করে বলেন, "এই দুঃসময়ে বান্দরবানের মানুষের পাশে সবসময় থাকবে গো আপ ফাউন্ডেশন।"
গো আপ ফাউন্ডেশন একটি হিউম্যানিটেরিয়ান ও যুব-নেতৃত্বাধীন অলাভজনক সংস্থা, যা দেশের যেকোনো জাতীয় সংকটে তরুণদের সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...