বিজ্ঞাপন
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বকশীগঞ্জ উপজেলায় মোট ১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১ হাজার ২৭০ হেক্টর জমির পাট কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এখনও ৬০৫ হেক্টর জমির পাট কাটার কাজ বাকি রয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষি বিভাগের ধারণা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কৃষকরা পাট কাটছেন, কোথাও আঁটি বেঁধে খাল-বিল ও জলাশয়ে জাগ দিচ্ছেন, আবার কোথাও আঁশ ছাড়িয়ে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভালো ফলনের কারণে কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি দেখা গেলেও বাজারদর নিয়ে তাদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।
নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, এ বছর পাটের ফলন খুব ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাইও তেমন ছিল না। তবে সার, শ্রমিক ও অন্যান্য উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বর্তমানে যে দামে পাট বিক্রি হচ্ছে, তাতে খরচ উঠে এলেও দাম আরও কিছুটা বাড়লে কৃষকরা বেশি লাভবান হতেন।
বগারচর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, পাট চাষে পরিশ্রম অনেক বেশি। তারপরও ভালো ফলনের কারণে আমরা আশাবাদী। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম যদি আরও কিছুটা বৃদ্ধি পায়, তাহলে কৃষকরা ন্যায্য লাভ পাবেন এবং আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষে আগ্রহী হবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, বকশীগঞ্জে চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ ও ফলন দুটিই সন্তোষজনক। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ এলাকায় পাট কাটা ও আঁশ সংগ্রহের কাজ চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অবশিষ্ট জমির পাটও সফলভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। বাজারে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেলে আগামী মৌসুমে পাটের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করছি।
বর্তমানে বকশীগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় দাম আরও কিছুটা বাড়লে তারা অধিক লাভবান হবেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল এবং পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে বিশ্ববাজারে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, উন্নত মানের বীজ সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকলে বকশীগঞ্জে পাট চাষের পরিধি আরও বাড়বে। এতে কৃষকের আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে সোনালি আঁশ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...