বিজ্ঞাপন
বরখাস্ত হওয়া দুই দলিল লেখক হলেন উপজেলার বংকুরা গ্রামের মৃত নেহাল উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন শেখ এবং কাঠি গ্রামের মৃত শহীদুল শরীফের ছেলে মিজানুর রহমান বুলবুল শরীফ।
গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) কোটালীপাড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন এক আদেশে এই দুই দলিল লেখককে সাময়িক বরখাস্ত করেন। একই সঙ্গে তাদের কেন স্থায়ীভাবে বরখাস্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর (শো কজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এর লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সাব-রেজিস্ট্রার।
কোটালীপাড়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নাসির উদ্দিন শেখ ও মিজানুর রহমান বুলবুলসহ কয়েকজন দলিল লেখকের বিরুদ্ধে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে জাল দলিল রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন নিজেই বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তিনি অভিযুক্ত দুই দলিল লেখকের বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
ঘটনার বিবরণে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া দলিল লেখক মিজানুর রহমান বুলবুল বলেন, গত ১৫ জুলাই উনশিয়া গ্রামের মৃত ফহম মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম জমি বিক্রির দলিল ও পর্চার কাগজপত্র নিয়ে তার কাছে আসেন। তিনি দলিলাদির সাধারণ নিয়ম মেনে কাগজপত্রগুলো সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেন। সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। তবে পরবর্তীতে প্রকাশ পায় যে আমেনা বেগম ভুয়া কাগজপত্র উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি আরও জানান, কারণ দর্শানোর নোটিশের লিখিত জবাব ইতোমধ্যে তিনি সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।
অপর অভিযুক্ত দলিল লেখক নাসির উদ্দিন শেখ জানান, সম্প্রতি একটি দলিল নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তিনি সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিলে নূরে তোজাম্মেল হোসেন নথিগুলো জাল বলে অভিহিত করেন। এরপর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে নোটিশ দেওয়া হয় এবং তিনিও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার জবাব দাখিল করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে তথ্যানুসন্ধানে জমি বিক্রেতা আমেনা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের একাধিক প্রবীণ দলিল লেখক অভিযোগ করেন, কার্যালয়ের অসাধু কিছু দলিল লেখক ও কর্মচারীর যোগসাজশে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে আসছে। এর ফলে শত শত মানুষ প্রতারিত হয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতারক চক্রটির বিরুদ্ধে স্থায়ী বরখাস্তসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন জানান, দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জাল কাগজপত্র উপস্থাপনের প্রমাণ পাওয়ায় দুই দলিল লেখক মিজানুর রহমান বুলবুল ও নাসির উদ্দিন শেখকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের কেন স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে না এবং আইনানুগ শাস্তি দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে শোকজ করা হয়েছে। নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...