বিজ্ঞাপন
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় কীর্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান চপল এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক মিয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিক, প্রচার সম্পাদক আজিজুল হক এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুল হাসান। সভায় ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তবে আনুষ্ঠানিক আলোচনার বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়ার উপস্থিতি। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিকসহ উপস্থিত নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপরই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
সমালোচকদের দাবি, অতীতে ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়াকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সঙ্গে তাঁর একাধিক ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের ভাষ্য, ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়া দলীয় প্রতীকে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে থাকেন।
এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়া বলেন, “আমার বাবা ও দাদাসহ পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি এবং সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার আগ্রহ রয়েছে। বিগত দিনে বাধ্য হয়ে আমির হোসেন আমুর বিভিন্ন কর্মসূচিতে যেতে হয়েছে।”
অন্যদিকে, ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান বলেন, “কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে বিএনপিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি বা যোগদানের কোনো সুযোগ নেই। ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপির সভা হওয়ায় সৌজন্যতাবশত ইউপি চেয়ারম্যান রহিম মিয়া আমাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, এটি ছিল বিএনপির নিয়মিত সাংগঠনিক সভা এবং দলের নীতিমালার বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কীর্তিপাশার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তার প্রভাব ভবিষ্যতের স্থানীয় রাজনীতি এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পড়তে পারে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...