বিজ্ঞাপন
আমরা তাদের সঙ্গে একসাথে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। অচিরেই আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে মিশে যাবে, কারণ তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ নেই।”
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে সুনামগঞ্জের দিরাই থানা পয়েন্টে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই স্মরণ সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে নাছির চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের রাজনীতিতে ঐক্য, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি জনগণের আস্থা ও সমর্থন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং দলকে বিভক্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
স্থানীয় বিএনপিতে বিভাজনের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজকের এই সমাবেশই বিএনপির মূল সমাবেশ। এর বাইরে বিএনপির আর কোনো সমাবেশ নেই। আগামী ৮ তারিখে বিএনপির নামে যারা আলাদা সমাবেশ করতে চাচ্ছে, তারা মূলত দলে বিভক্তি সৃষ্টি করতে চায়। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের এসব ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।”
নিজের বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন অভিযোগ ও অপপ্রচারের জবাবে নাছির চৌধুরী বলেন, “আমার কোনো ভাই নেই, আমি একা। এমনকি আমার বাসাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যারা দলের নাম ব্যবহার করে চুরি-দুর্নীতি করার সুযোগ পাচ্ছে না, তারাই আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ আনা হচ্ছে। যারা এসব কথা বলে, তাদের আমি প্রশ্ন করতে চাই—আসলে কত টাকা বরাদ্দ এসেছে? প্রয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে খোঁজ নিন। সত্যটা সবার সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমি যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন কাউকে কোনো ধরনের দুর্নীতি করার সুযোগ দেব না। জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হবে—এটাই আমার অঙ্গীকার।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেনের সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা ফারুক সর্দার ও সাব্বির মিয়ার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাছির চৌধুরীর সহধর্মিণী পারভিন চৌধুরী।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির তালুকদার, সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, নুরুল হক তালুকদার, আবু সাঈদ চৌধুরী, সজিব রশিদ চৌধুরী এবং ছাত্রদল নেতা শাহ আলম, জুনেদ মিয়া ও মেহেদী হাসান চৌধুরী।
সমাবেশে দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটের বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ, দলীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...