বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় অটোভ্যান চুরি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় শেরপুর থানায় আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মইনুদ্দীন।
নিহত রাজু (৭) শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ররোয়া গ্রামের জনক আলমের ছেলে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার রানীরহাট বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট একই গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে মুস্তাকিম (২৪) রাজুকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাজু মাঝেমধ্যে মুস্তাকিমের ভগ্নিপতির মালিকানাধীন ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চালিয়ে কৃষিকাজে সহযোগিতা করত। পুলিশের দাবি, ওই অটোভ্যান চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন মুস্তাকিম এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় রাজুকেও সঙ্গে নেওয়া হয়।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, পরে মির্জাপুর এলাকার পুরোনো অটোভ্যান কেনাবেচার ব্যবসায়ী নায়েব আলীর ছেলে করিমের কাছে অটোভ্যানটি বিক্রির চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রাজুকে সঙ্গে দেখে করিম আপত্তি জানান। তখন চুরির একমাত্র সাক্ষী হিসেবে শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে না বলে অভিযুক্তরা সিদ্ধান্ত নেয়। পরে রাজুকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার একটি ধানখেতে নিয়ে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
রাজুকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে মুস্তাকিমের বাড়িতে যান। পরে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজুর বাবা জনক আলম শেরপুর থানায় মামলা করেন। অভিযোগের পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী রায়গঞ্জ উপজেলার একটি বাড়ি থেকে মুস্তাকিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করিমকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেখানো স্থান থেকে তাড়াশ উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের ধানখেত থেকে রাজুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ সময় করিমের শ্বশুরবাড়ি থেকে খণ্ড-বিখণ্ড অবস্থায় রাখা চুরি হওয়া অটোভ্যানের চারটি ব্যাটারি, দুটি চাকা, চেসিস ও একটি চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিকাশ চক্রবর্তী জানান, শিশুটির মাথা কাদামাটির নিচে চাপা অবস্থায় ছিল। মরদেহে পচন ধরেছিল এবং বাঁ পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, ৪ আগস্ট সন্ধ্যা বা রাতেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক সময় ও কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা প্রধান অভিযুক্ত মুস্তাকিমের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনার সময় বাড়িতে পরিবারের কোনো সদস্য ছিলেন না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নিতে বিলম্বের অভিযোগের বিষয়ে ওসি এসএম মইনুদ্দীন বলেন, ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই তদন্ত শুরু হয় এবং ৬ আগস্ট দুপুরে আনুষ্ঠানিক মামলা নেওয়া হয়। প্রায় দেড় দিনের মধ্যেই আসামি গ্রেপ্তার, মরদেহ উদ্ধার এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশের ভাষ্য, এটি ছিল একটি ‘ক্লুলেস’ অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড।
শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদিন জানান, শুক্রবার গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...