বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে জানানো হয়, শানডং প্রদেশের কিংদাওয়ে অবস্থিত ‘বেইহাই শিপবিল্ডিং কোম্পানি লিমিটেড’-এ মেরামতের জন্য ভেড়ানো ওই পণ্যবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের সময় মোট ৪২ জন আরোহী ছিলেন। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের শিকার জাহাজটি থেকে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত ৫ জনসহ মোট ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে জাহাজটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
জাহাজের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট 'মেরিনট্রাফিক'-এর তথ্য অনুযায়ী, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘ওশান মেলোডি’ নামের এই বাল্ক ক্যারিয়ারটি ১৯০ মিটার (৬২৩ ফুট) দীর্ঘ। বিশ্বখ্যাত ‘সিংতাও’ বিয়ারের নামানুসারে পরিচিত কিংদাও শহরটিতে জাহাজটি নোঙর করা ছিল। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে ১৮০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ৭০০টিরও বেশি বন্দরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই কিংদাও বন্দর। আর দুর্ঘটনাঘটিত বেইহাই শিপবিল্ডিং ইয়ার্ডটি চায়না স্টেট শিপবিল্ডিং কর্পোরেশনের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়।
দুর্ঘটনার সময় কাছাকাছি আবাসিক এলাকায় থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, তিনি জাহাজটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখলেও কোনো বিস্ফোরণের শব্দ বা পোড়া গন্ধ পাননি। সিনহুয়া প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায়, ইয়ার্ডে দাঁড়িয়ে থাকা ওশান মেলোডি জাহাজটির সামনে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি গাড়ি অবস্থান নিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি দায়ীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, সব অঞ্চল ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এ ঘটনা থেকে গভীর শিক্ষা নিতে হবে এবং যেকোনো অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে তা দূর করার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
চীনে শিল্পক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না মানার কারণে প্রায়ই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে। এর আগে গত আগস্টে ফুজিয়ান প্রদেশের একটি শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ ও আগুনে ১ উদ্ধারকর্মী নিহত ও ১২ জন আহত হন। চলতি বছরের মে মাসে দেশটির মধ্যাঞ্চলের একটি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৩৭ জন এবং জুলাইয়ে ফুজিয়ান প্রদেশের একটি জুতার কারখানায় আগুনে অন্তত ২৮ জন প্রাণ হারান। এ ছাড়া হংকংয়ে একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ১৬৮ জনের মৃত্যুর পর গত বছরের নভেম্বর থেকে দেশজুড়ে বিশেষ অগ্নিনির্বাপণ অভিযান শুরু করা হয়েছিল।
সূত্র: এএফপি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...