বিজ্ঞাপন
ইমদাদুল হকের বাড়ি শিবচর উপজেলার বাশকান্দি ইউনিয়নের মির্জারচর মোল্লাকান্দি গ্রামে। তিনি মির্জারচর বেপারি কান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। অবসরে যাওয়ার পর বসে না থেকে প্রায় তিন বছর আগে পঞ্চগ্রামে ১২০ শতাংশ জায়গার ওপর শুরু করেন সিডলেস লেবুর চাষ।
শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না তার জন্য। স্ত্রী কিংবা সন্তান—কেউই এই কাজে তার পাশে ছিল না। তবে দমে না গিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব দক্ষতায় তিনি বাগান পরিচর্যা চালিয়ে যান। গত বছর সব খরচ বাদ দিয়েও কেবল লেবু বিক্রি করে প্রায় ১ লক্ষ টাকা লাভ করেন তিনি। এই সফলতা তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।
সেই শখ ও ভালো লাগা থেকে ২০২৫ সালের শেষ দিকে আরও ১২০ শতাংশ জমি ভাড়া নিয়ে তিনি মিশ্র শাকসবজি ও ফলের চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার বাগানে পেয়ারা, তরমুজ, ক্ষিরাই ও পেঁপে শোভা পাচ্ছে। এই প্রকল্পে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি। ইমদাদুল হক আশাবাদী যে, আগামী ৩ মাসের মধ্যেই তার বিনিয়োগের টাকা উঠে আসতে শুরু করবে।
সাফল্যের এই গল্পের আড়ালে রয়েছে কিছু আক্ষেপও। এই প্রবীণ শিক্ষক জানান, তার এত বড় বাগান পরিদর্শনে এখন পর্যন্ত সরকারি কৃষি অফিসের কোনো কর্মকর্তা আসেননি। এমনকি বাগানের জন্য প্রয়োজনীয় সার ও ওষুধের কোনো সরকারি সহযোগিতাও তিনি পাননি। সব প্রতিকূলতা জয় করেই তিনি একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে চলছেন।
এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীরা এই প্রবীণ শিক্ষকের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। বাগান পরিদর্শনে আসা জাভেদ মাহমুদ বলেন, "ইমদাদুল হক একজন অত্যন্ত সাদা মনের মানুষ। পরিবার থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পেলেও তিনি একাই লড়ে যাচ্ছেন। তিনি সফল হবেন এবং তার এই উদ্যোগ দেখে এলাকার অনেক তরুণ উদ্যোক্তা অনুপ্রাণিত হবে।"
জীবনের এই পড়ন্ত বিকেলে মাটির মায়ায় নিজেকে সঁপে দেওয়া ইমদাদুল হক এখন বাগান নিয়েই তার জীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেন। তার প্রত্যাশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই বাগানকে তিনি আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...