Logo Logo

তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তাব বাংলাদেশের


Splash Image

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিধি বাড়াতে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা। এর অংশ হিসেবে তুরস্ককে বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (স্পেশাল ইকোনমিক জোন) দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ।


বিজ্ঞাপন


শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানী ঢাকায় সফররত তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে আয়োজিত এই বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিনিয়োগ প্রস্তাবের কথা গণমাধ্যমকে জানান। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনে আবদ্ধ দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তির এই মাহেন্দ্রক্ষণে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, আমরা তুরস্কের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছি। আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে বর্তমানের চেয়ে বহুগুণে বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের দেওয়া বিভিন্ন আকর্ষণীয় প্রণোদনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ ও তুরস্কের কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং শিক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারের সুবিধা নিতে তুর্কি বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি টেক্সটাইল ও অ্যাপারেলস, প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদন, জাহাজ নির্মাণ, ফার্মাসিউটিক্যালস, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আইসিটি, স্মার্ট প্রযুক্তি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহণের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে তুরস্কের বিনিয়োগের ওপর জোর দেন। এ ছাড়া ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য তুরস্ককে বিশেষ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের সামাজিক ও শিক্ষাগত উন্নয়ন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক তুরস্কে বসবাস করছেন, যাদের বড় অংশই শিক্ষার্থী। এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা আরও বাড়াতে তুর্কি সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্কৃতি, পর্যটন ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেছে।

দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানান খলিলুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি। যত দ্রুত সম্ভব এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও সসম্মানে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের আন্তরিক ও গুরুতর প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এই সংকটের শুরু থেকেই তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে থাকায় এবং ওআইসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে জোরালো ভূমিকা রাখায় তুর্কি সরকারকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...