বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিক কালাম তালুকদার। তিনি কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে মারধর করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা পরিষদ ভবনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সে সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভাকক্ষের বাইরে কয়েকজন ছাত্রদল নেতা প্রকাশ্যে সাংবাদিক কালাম তালুকদারকে হেনস্থা ও মারধর করে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ করা হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সরকারি দপ্তরের ভেতরে যদি একজন সাংবাদিক নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? প্রশাসনের উচিত দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।
সাবেক মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মামুনুর রহমান সিকদার জুয়েল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
গোপালগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সেলিম রেজা বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় উপজেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ সরকারি দপ্তর। সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক হামলার শিকার হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা না নেওয়া গাফিলতির সামিল।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, সাংবাদিকের পক্ষ থেকে অভিযোগ বা মামলা হলে প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করবে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন এখনো আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়নি—এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার সংবাদ সংগ্রহ শেষে কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা সাংবাদিক কালাম তালুকদারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে মারধর করে নিচতলায় টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...