বিজ্ঞাপন
শহরের মান্দারতলা থেকে শুরু করে বাগচী বাড়ির মোড়, জেলা জামে কোর্ট মসজিদ, ম্যাজিস্ট্রেট কোয়ার্টার লাগোয়া পূর্বপাশে গণপূর্ত বিভাগের প্রধান ফটকের সামনে, সরকারি মডেল স্কুল, পোস্ট অফিস মোড় এবং পোস্ট অফিসের প্রধান ফটকের সামনে, পাবলিক হল মোড়, বীণাপানি গার্লস স্কুল মোড়, বটতলা মোড়, কালীবাড়ি মোড়, কলেজ মসজিদ রোড, লঞ্চঘাট, চৌরঙ্গী, প্রগতি প্রসাধনীর সামনে, বাটার শো-রুমের সামনে, ডিসিরোড, স্বর্ণপট্টি, বেপারী পট্টি—এইসব পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। চটপটি, ফুচকা, হালিম, মৌসুমী ফলের দোকানসহ বিভিন্ন খাবারের দোকানগুলো রাস্তায় ছাতা টানিয়ে রীতিমতো সড়কের অর্ধেক জায়গা দখল করে বসেছে। ফলে যান চলাচলে যেমন বিঘ্ন ঘটছে, তেমনি ফুটপাত ব্যবহারও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রস্থলে জেলা জামে কোর্ট মসজিদ, ম্যাজিস্ট্রেট কোয়ার্টার লাগোয়া গণপূর্ত বিভাগের প্রধান ফটক এবং সরকারি মডেল স্কুলের প্রধান ফটকের সামনের সড়ক ও ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে। চটপটি, ফুচকা, হালিমসহ বিভিন্ন খাবারের দোকান বসিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ভ্রাম্যমান বিক্রেতারা। রাস্তায় দোকান সাজিয়ে উপরে বড় ছাতা টানিয়ে এবং ফুটপাতে চেয়ার পেতে ব্যবসা পরিচালনার ফলে প্রতিদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছেন না, বিশেষ করে স্কুল চলাকালীন সময়ে ভোগান্তির মাত্রা চরমে পৌঁছায়।
একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "প্রতিদিন সন্তানকে স্কুলে আনা-নেওয়ার সময় রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। রাস্তায় দোকান আর ফুটপাতে চেয়ার বসানো—কোথাও হাঁটার জায়গা নেই। অথচ কর্তৃপক্ষ কিছুই করছে না।"
আরেক পথচারী জানান, “ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে মূল সড়কে হাঁটতে হয়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।”
শুধু যানজট নয়, বিকেলের পর এই দোকানগুলোর সামনে কিশোর গ্যাংয়ের জটলা তৈরি হয়। উচ্চ শব্দে গান, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, পথচারীদের বিরক্ত করা—এসব ঘটনা যেন প্রতিদিনের চিত্র। স্কুলের সামনে বসে থাকা এসব কিশোরদের কারণে অনেক অভিভাবক উদ্বিগ্ন।
একজন মা জানান, “স্কুলের সামনে কিশোর গ্যাং-এর উপস্থিতি আমাদের আতঙ্কিত করে। মেয়েকে একা স্কুলে পাঠাতে ভয় হয়।”
শহরের মানুষ বলছেন, এই সমস্যা নতুন নয়। তবে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। অথচ এই এলাকায় রয়েছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের অফিস, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয় ও পৌরসভা—যাদের প্রত্যেকদিন এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, তবুও কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
উল্লেখ্য, গোপালগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র রকিব হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই স্বল্প সময়ের মধ্যে শহরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এনেছিলেন আমূল পরিবর্তন। তার উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয় ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। তবে শুধু উচ্ছেদ নয়—তিনি এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যবসার সুযোগ করে দিয়েছিলেন, যাতে তাদের জীবিকা ব্যাহত না হয়।
শুধু দখলমুক্তকরণই নয়, মেয়র রকিব হোসেনের সময়কালে শহরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানজট নিরসন, সড়ক ও ফুটপাত সংস্কার, খাল পুনর্খনন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং শহরের রাস্ত-ঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় নেওয়া হয় একাধিক কার্যকর পদক্ষেপ। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে সরাসরি সমস্যা পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নিতেন তিনি। স্বল্পকালীন সময়ে তার এই কার্যক্রম পৌরবাসীর নিকট ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।
পৌরবাসীরা জানান, মেয়র রকিব হোসেন শুধুমাত্র উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং জনকল্যাণমুখী কাজেও তার দক্ষতা ও দায়বদ্ধতার পরিচয় রেখেছেন।
বর্তমানে সেই শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। নাগরিকরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হবে। সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে তারা কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলেছেন—
১। পৌরসভা, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে।
২। স্কুল ও জনবহুল এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সিসিটিভি নজরদারি বাড়াতে হবে।
শহরের সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “এখন আর শুধু পরিকল্পনা নয়, চাই বাস্তবায়ন। নাহলে এই দুর্ভোগ আর থামবে না। পরিস্থিতি আরো চরমে পৌছাবে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...