Logo Logo

গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু, তদন্তে সিভিল সার্জনের কমিটি গঠন


Splash Image

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ মাস বয়সী শিশু তুবা ইসলাম তোহার মৃত্যুর ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা সিভিল সার্জন।


বিজ্ঞাপন


আজ সোমবার (৩০ মার্চ) মুকসুদপুরে কর্মরত চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এই বিশেষ টিম গঠন করা হয়।

গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক জানান, গঠিত কমিটির সদস্যরা মঙ্গলবার আক্রান্ত এলাকায় গিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবেন। এছাড়া সেখানে কোনো সন্দেহভাজন রোগী (সাসপেক্ট কেস) থাকলে তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। একই সাথে জেলার সব সরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিভিল সার্জন আরও জানান, বর্তমানে জেলার কোনো হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগী ভর্তি নেই। কিছু শিশু জ্বর নিয়ে ভর্তি থাকলেও তাদের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া যায়নি। জেলায় হামসহ সব ধরনের ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামের তুহিন শেখের ১০ মাস বয়সী শিশু তুবা ইসলাম তোহা গত ২৭ মার্চ ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তোহার মা নাজমা বেগম জানান, গত ১৯ মার্চ শিশুটি জ্বরে আক্রান্ত হয়। এরপর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে মুকসুদপুর উপজেলা হাসপাতাল ও স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হয়ে সারা শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দেয়।

পরবর্তীতে ২৬ মার্চ মুকসুদপুর হাসপাতাল থেকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে সরকারি সেবায় সন্তুষ্ট হতে না পেরে স্বজনরা তাকে ঢাকার মালিবাগের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে আইসিইউ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ২৭ মার্চ দুপুরে শিশুটি মারা যায়। গত শুক্রবার স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

টেংরাখোলা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য সহকারী খোরশেদা মল্লিক ডলি জানান, শিশুটিকে নিয়মিত সব টিকা দেওয়া হয়েছিল। গত ২৫ মার্চ হামের টিকা দেওয়ার জন্য তোহাদের বাড়িতে গেলেও শিশুটি অসুস্থ থাকায় তখন টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন জানান, শিশুটিকে জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২০ ও ২৬ মার্চ হাসপাতালে আনা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠানো হয় এবং পরে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়, যেখানে ২৭ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজি অফিস) থেকে এ মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে এবং তা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত তিন বছরে এলাকায় হামের কোনো পজিটিভ রোগী পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে তিনি বলেন, “হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা জরুরি। এজন্যই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু করবে।”

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...