বিজ্ঞাপন
গত বৃহস্পতিবার থেকে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে এই খাস আদায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদবরের চর হাটটি মূলত সমিরদ্দিন মাদবর ওয়াকফ এস্টেট ও রহিমদ্দিন মাদবর ওয়াকফ এস্টেটের মালিকানাধীন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে হাটের জমি ও নিয়ন্ত্রণ প্রভাবশালী মহলের দখলে চলে যায়। এর প্রতিকারে মোতাওয়াল্লি তছলিম চৌধুরী ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেন। মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি।
পরবর্তীতে বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালত ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং একই বছরের ১১ নভেম্বর মোতাওয়াল্লির পক্ষে রায় প্রদান করেন। উচ্চ আদালতের এই রায় ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় মোতাওয়াল্লি তছলিম চৌধুরী পুনরায় আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলে রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৬ মার্চ আদালত জেলা প্রশাসনকে চার সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন এবং একই সঙ্গে হাটের ইজারা কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন।
মোতাওয়াল্লি তছলিম চৌধুরীর অভিযোগ, “বিগত সরকারের আমলের মতো এখনো একটি বিশেষ চক্র প্রশাসনের সহায়তায় ওয়াক্ফ সম্পত্তি লুটেপুটে খাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও বেআইনিভাবে খাস আদায় করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেন, “আমরা আদালতের আদেশ পেয়েছি এবং এর বিরুদ্ধে আপিল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হাটটি পেরিফেরি হাটের তালিকাভুক্ত থাকায় এবং রেকর্ড অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তি হওয়ায় খাস কালেকশন করা হচ্ছে।”
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার এ প্রসঙ্গে জানান, “বিষয়টির সঠিক সমাধান আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ীই হবে। আইনের বাইরে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। মাদবরের চর হাটের বিষয়টি নিয়ে আমি আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও খাস আদায়ের এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আইনি জটিলতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...