বিজ্ঞাপন
কৃষক খায়রুল মিয়ার চোখে শুধু পানিতে ডোবা ধানের শোক নয়, ভেসে উঠছে ঋণের বোঝাও। তিনি বলেন, এখন এক লাখ টাকার ঋণ কেমনে শোধ করুম?
হাওর এলাকার অধিকাংশ কৃষকই এনজিও ঋণ কিংবা বর্গাচাষের ওপর নির্ভরশীল। যেসব ধান কাঠা হচ্ছে সেইসব ধান রোধের অভাবে নষ্ট হতে চলেছে। ফলে ফসলহানির অর্থ শুধু খাদ্য সংকট নয়, বরং বসতভিটা হারানোর শঙ্কাও।
এদিকে জমির ধান তলিয়ে যেতে দেখে গভীর শোকে নাসিরনগরের গোয়ালনগর রামপুর গ্রামের কৃষক আহাদ মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। কৃষকের এই মৃত্যু যেন হাওরের হাজারো কৃষকের বুকফাটা কষ্টের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বর্গাচাষি লিংকন মিয়া জানান, তিন বিঘা জমি বর্গা নিছি। এখন সব পানির নিচে। পরিবার লইয়া কেমনে চলুম বুঝতেছি না।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৫১ হাজার। এ বছর প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরে আবাদ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর। যার ৬৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। অবশিষ্টের মধ্যে ব্রি ধান ২৯, ব্রি-১০০, ব্রি-৯২, ব্রি-১০২ ও ব্রি-১০৮ ব্রি-৫৮ এখনো কাটা বাকি আছে যা ৩০০ হেক্টর পরিমান। বাকি ৩০০ হেক্টর এখনো মাঠে আর সেই অংশই সবচেয়ে ঝুঁকিতে।
কৃষি অফিস থেকে পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হলেও বাস্তবে মাঠে নামতে ভয় পাচ্ছেন কৃষকরা। ভেজা জমিতে ধান কাটা যেমন কঠিন, তেমনি তা সংরক্ষণ করাও দুঃসাধ্য। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বজ্রপাতের আতঙ্ক।
৮০ বছর বয়সী কৃষক হাসান মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, এই সময় পানি আসার কথা না। এখন একটাই চিন্তা ধান ঘরে তুলতে পারুম তো?
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হাওরের পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বদলে যাওয়ায় এমন আকস্মিক বিপর্যয় বাড়ছে। তাদের দাবি, কখনো পানি থাকে না, আবার হঠাৎ করেই ঢল নামে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সহায়তা পাই না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসেন জানান, ইতোমধ্যে মেথির হাওর ও ডালাগাং এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি বলেন, পানি দ্রুত নেমে গেলে কৃষকরা কিছু ধান উদ্ধার করতে পারবেন। না হলে ক্ষতি আরও বাড়বে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে।
নাসিরনগরের হাওরে এখন শুধু পানিতে ডোবা ধান নয়, ডুবে যাচ্ছে হাজারো পরিবারের স্বপ্ন, বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকুও।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...