বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের যুব-১ শাখা থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নম্বর: ৩৪.০০.০০০০.০০০.৫২.০০০.১৮.২২১) জানানো হয়েছে, আলমগীর হোসেনকে নীলফামারী সদর থেকে সরিয়ে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। আগামী ১৮ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে তাঁকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে, অন্যথায় তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বা ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ হিসেবে গণ্য হবেন।
গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি প্রতি লাখ টাকায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন নিতেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ইউপি সদস্য।
সংরক্ষিত নারী সদস্য বিলকিস বেগম ও চম্পা রানী অভিযোগ করেন, তাঁদের পৃথক দুটি প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়ার সময় অগ্রিম ৪০ হাজার টাকা করে নেওয়া হলেও কাজ শেষে এখনো বিল পরিশোধ করা হয়নি। ইউপি সদস্য মশিউর রহমানও কমিশনের মাধ্যমে বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এছাড়া পরিষদের ‘ওয়ান পার্সেন্ট’ খাতের ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং মাটি কাটা প্রকল্পের নামে ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে আরও ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগে আরও জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের ভিজিএফ চালের উদ্বৃত্ত ১৫ বস্তা চাল বিক্রি এবং প্রায় ৪০০টি কার্ড নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে অনিয়ম করেছেন তিনি। অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচি ও ভিডব্লিউবি কার্ডের জন্য জনপ্রতি ৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ডের জন্য ৩ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি বিনামূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও নাগরিকত্ব ও প্রত্যয়নপত্রের জন্য ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং জন্ম নিবন্ধনের জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে স্থানীয়দের।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণগুলোতেও অনিয়ম ধরা পড়েছে। সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতার নির্দিষ্ট অংশ কেটে রাখা এবং ভুয়া প্রশিক্ষণার্থী দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
দুর্নীতির প্রতিবাদে গত ১২ মার্চ গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে এলাকাবাসী ও সদস্যরা আলমগীর হোসেনকে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। এর প্রেক্ষিতে ২৫ মার্চ নীলফামারী সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত চলাকালীনই গত ১০ মে তিনি প্রশাসকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং দুদিন পর তাঁর বদলির আদেশ আসে।
দুর্নীতির মাধ্যমে আলমগীর হোসেন কালীতলা এলাকায় বিপুল জমি ক্রয়, পাঁচতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ইউপি সদস্যরা তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর অবৈধ সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...