Logo Logo

ছাতকে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত অন্তত ৪০, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি


Splash Image

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আমেরতল গ্রামে পূর্ব বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।


বিজ্ঞাপন


আজ শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকে ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে গুরুতর আহত ২৯ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৯ জন আহত অবস্থায় ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বাকি ২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আমেরতল গ্রামের অ্যাডভোকেট মনির উদ্দিন পক্ষ এবং কফিল উদ্দিন পক্ষের মধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। এর আগেও এই দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার জের ধরে স্থানীয় থানা ও আদালতে উভয় পক্ষের একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে স্থানীয়রা জানান, কফিল উদ্দিনের ভাই ফয়সাল আহমদ একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে হাজিরা না দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত শুক্রবার তিনি গোপনে বাড়িতে ফিরে আসেন। এই খবরটি প্রতিপক্ষের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে অ্যাডভোকেট মনির উদ্দিনের লোকজন তাকে ধাওয়া করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মূলত শুক্রবার বিকেল থেকে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার বিকেলে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে মধ্যস্থতা করেন এবং সংঘর্ষ এড়ানোর চেষ্টা চালান। তবে সেই শান্তি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আজ শনিবার সকালে পুনরায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং উভয় পক্ষ একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আকস্মিক এই সংঘাতের কারণে নারী ও শিশুসহ সাধারণ গ্রামবাসী আতঙ্কে নিজ নিজ ঘরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন— তজন্মুল আলীর পুত্র আক্তার হোসেন (৫০), তৈয়ব আলীর পুত্র তাজুল ইসলাম (৫৫), আবুল কালামের পুত্র শাহজাহান মিয়া (৬০), মুক্তার আলী (৫৫), আরজু মিয়ার পুত্র কেনু মিয়া (৩৫) এবং জমির উদ্দিনের পুত্র ছালেক মিয়া (২৩)।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ছাতক থানার পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পূর্ব বিরোধের জের ধরেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। পুলিশের তাৎক্ষণিক ও জোরালো ভূমিকার কারণে বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে সংঘাত এড়াতে আমেরতল গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষের পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও পুনরায় সংঘাত এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...