বিজ্ঞাপন
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আগে ওয়েস্টক্লিফ ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ড. অ্যান্থনি লি কয়েক মিনিট ধরে ড. জুয়েলের শিক্ষাগত অর্জন, গবেষণায় অবদান, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বক্তব্য দেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কেন ড. জুয়েলকে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
সেই মুহূর্তের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ড. রাসেল মাহমুদ জুয়েল বলেন, “আমি সত্যিই বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। অনুভূতিটা ছিল ভাষায় প্রকাশের অতীত।”
তিনি জানান, পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আগে গ্রিন রুমে একটি ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও শিক্ষকেরা তার সঙ্গে সেলফি তোলার আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি উপলব্ধি করেন যে, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং সংগ্রাম সার্থকতার এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
চাঁদপুরের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা ড. জুয়েল নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বাংলাদেশে তিনটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ কাস্টমসে টানা আট বছর চাকরি করার পর ২০২২ সালে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।
ডক্টরাল গবেষণায় তিনি সরকারি খাতে, বিশেষ করে কাস্টমস ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে একটি উদ্ভাবনী মডেল তৈরি করেন, যা প্রশাসনিক দক্ষতা ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
বাইস্যাকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ড. জুয়েল ক্যালিফোর্নিয়ার ৩৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেছেন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন প্রবাসী ও সামাজিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন এবং যুব নেতৃত্ব বিকাশে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
গবেষণা ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন ড. জুয়েল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, জনস্বাস্থ্য এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বিষয়ে তার ১৬টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তার গবেষণাকর্ম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ৩৭০টিরও বেশি বার উদ্ধৃত হয়েছে, যা তাকে একজন উদীয়মান আন্তর্জাতিক গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...