Logo Logo

গোপালগঞ্জে ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিটের ৯টিই অকার্যকর


Splash Image

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ১০ শয্যার ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ইউনিটের ১০টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে মাত্র একটি সচল থাকলেও বাকি ৯টি কারিগরি ত্রুটির কারণে দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। ফলে জেলার গুরুতর অসুস্থ রোগীরা গত সাড়ে ৫ বছর ধরে আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।


বিজ্ঞাপন


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে হাসপাতালের ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিটের জন্য ১০টি ভেন্টিলেটর বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এগুলো আইসিইউ ইউনিটে স্থাপন করা হলেও কার্যত ব্যবহার শুরু হয়নি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে অধিকাংশ ভেন্টিলেটর এখন অকেজো হয়ে গেছে।

গোপালগঞ্জ শহরের ব্যাংকপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আফসারুল আলম বলেন, “আইসিইউ সেবা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সাধারণ মানুষের কাছে এটি সোনার হরিণের মতো। জেলা শহরে এমন সেবা সচরাচর পাওয়া যায় না। সরকার ২০২০ সালে এখানে আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করলেও সেটি চালু হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিটটি অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে রয়েছে। এছাড়া নিম্নমানের যন্ত্রপাতির কারণেও অধিকাংশ ভেন্টিলেটর নষ্ট হয়ে গেছে বলে জেনেছি। ফলে আমরা সাড়ে ৫ বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর পেশায় একজন চিকিৎসক এবং তিনি গরিবের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত। তিনি উদ্যোগ নিয়ে আইসিইউ ইউনিটটি দ্রুত চালু করলে জেলার মানুষ স্বল্প খরচে এই গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা পাবে।”

গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, “গত ১৪ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নারায়ণগঞ্জ (ভিক্টোরিয়া) জেনারেল হাসপাতাল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জসহ দেশের ১০টি জেলার ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন করেন। গোপালগঞ্জের আইসিইউতে ২০২০ সালে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির সময় সব ধরনের যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়। প্রতিটি বেড, ভেন্টিলেটর, মনিটরসহ প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম প্রস্তুত ছিল। কিন্তু যে ভেন্টিলেটরগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের। ফলে চালু করার আগেই অধিকাংশ নষ্ট হয়ে যায়।”

তিনি বলেন, “উদ্বোধনের দিন চালু করতে গিয়ে দেখা যায়, ১০টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে ৯টিই অচল। এ বিষয়ে আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন ভেন্টিলেটর এনে ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস বলেন, “২০২০ সালে আইসিইউ ইউনিটের সরঞ্জাম ক্রয় করা হয়। বর্তমানে ১০টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে মাত্র একটি সচল রয়েছে। কয়েকটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। তবে আইসিইউ বেড, মনিটরসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি কার্যকর রয়েছে। অকেজো ভেন্টিলেটরগুলো মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “আইসিইউ ইউনিট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলেরও ঘাটতি রয়েছে। তবে জনবল বৃদ্ধি এবং যন্ত্রপাতি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মো. ফারুক বলেন, “গোপালগঞ্জে ১০টি আইসিইউ বেড প্রস্তুত রয়েছে। ভেন্টিলেটরগুলোর কারিগরি সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেগুলো সচল করা হবে।”

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে আইসিইউ সেবা বন্ধ থাকায় জেলার গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায় যেতে হচ্ছে। এতে রোগীর স্বজনদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। দ্রুত আইসিইউ ইউনিট চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...