বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গীর উত্তর-পশ্চিমে কবির মোল্লার বাড়ি থেকে দক্ষিণে মৃধাডাঙ্গী এলাকার আলেপ খাঁর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই তাদের বসতভিটা সরিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া ফসলি জমি ভাঙতে শুরু করায় কৃষকরা অপরিপক্ব ফসল কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে প্রায় একশ মিটার দূরে অবস্থিত চর টেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর টেপুরা কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গী জামে মসজিদ বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাঙনের মুখে কৃষক শাহাবুদ্দিন শেখ তার পাকা ভিতের বাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। একই সঙ্গে চারজন কৃষকের অন্তত আট একর ফসলি জমি ইতোমধ্যে পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এসব জমিতে পাট, তিল ও ইরি ধানের আবাদ করা হয়েছিল।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কবির মোল্লার চার একর, ইউসুফ শেখের ১৬৫ শতাংশ, আলী মণ্ডলের ১৩২ শতাংশ এবং রাকিব মোল্লার ৩৩ শতাংশ ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়াকুব মৃধা জানান, গত শুক্রবার থেকে এ এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে এবং তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের কারণে স্থানীয়রা তাদের বসতবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, অন্যদিকে ফসলি জমি একের পর এক নদীতে বিলীন হচ্ছে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা চর টেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকান্ত ঘোষ বলেন, ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি এর আগেও তিন দফা নদীভাঙনের শিকার হয়েছে এবং বর্তমানে ২৫ শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত। বিদ্যালয়টিতে ১৯৩ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ অভিযোগ করেন, ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গীসংলগ্ন পদ্মা নদীর অংশে নাব্যতা রক্ষার জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিসি) উদ্যোগে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তার দাবি, অপরিকল্পিতভাবে খননকাজ পরিচালনার ফলেই এ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মতিউর রহমান বলেন, স্থানীয়রা যদি মনে করেন যে খননকাজের কারণেই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযোগের বাস্তবতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলে খননকাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুজ্জামান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত ভাঙনরোধে কাজ শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পুরো এলাকাকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানান, তিনি সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন। জেলা প্রশাসক ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এ এলাকায় নদীভাঙন দেখা দেয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য নদীর পাড়ের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় ব্লক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে। আপাতত অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...