বিজ্ঞাপন
আজ সোমবার (০৬ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার তিলছড়া গ্রামের প্রফুল্ল বিশ্বাসের ছেলে উজ্জ্বল বিশ্বাস (৩১) এবং একই গ্রামের অমৃত বিশ্বাসের স্ত্রী কল্পনা বিশ্বাস (৪৬)।
রায়ে মূল অভিযুক্ত উজ্জ্বল বিশ্বাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং অপরাধে সহায়তা করার দায়ে কল্পনা বিশ্বাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, কাশিয়ানী উপজেলার তিলছড়া গ্রামের উজ্জ্বল বিশ্বাস স্থানীয় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (সংগীতা টিকাদার) বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করার পাশাপাশি বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। স্কুলছাত্রী সেসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় উজ্জ্বল তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ০৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় উজ্জ্বলের প্ররোচনায় প্রতিবেশী কল্পনা বিশ্বাস ওই ছাত্রীকে তালপিঠা বানানোর কথা বলে নিজের বসতঘরে ডেকে আনে। ছাত্রীটি ঘরে প্রবেশ করার পর সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা উজ্জ্বল বিশ্বাস তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় কল্পনা বিশ্বাস ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে পাহারা দিয়ে উজ্জ্বলকে এই জঘন্য অপরাধে সরাসরি সহায়তা করে।
এই ঘটনার পর ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে উজ্জ্বল বিশ্বাস, কল্পনা বিশ্বাস ও উজ্জ্বলের বাবা প্রফুল্ল বিশ্বাসকে আসামি করে গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন দায়ের করেন। তৎকালীন বিচারক কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নিয়মিত ধর্ষণ মামলা দায়ের করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশে ১৬ অক্টোবর কাশিয়ানী থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাশিয়ানী থানার এসআই মো. নুরুল ইসলাম দীর্ঘ তদন্ত শেষে ঘটনায় প্রফুল্ল বিশ্বাসের সম্পৃক্ততা না পেয়ে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৪ মার্চ তিনি আদালতে উজ্জ্বল ও কল্পনার বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে দুই আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে আজ এই রায় প্রদান করেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. তৌফিকুল ইসলাম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এই রায়ে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এর মাধ্যমে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে এবং অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা যাবে।”
অন্যদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. কদরে আলম খান বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...