বিজ্ঞাপন
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের তানপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, তানপুরা গ্রামের বাসিন্দা মিজান শেখের মেয়ে মিলি বেগমের সঙ্গে প্রায় ১২ বছর আগে আল আমিনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে। বেকারত্ব ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। এ কারণে আল আমিন প্রায়ই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করতেন।
রাতইল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রবিউল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুরে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে যান। তবে কিছুক্ষণ পর আল আমিন একাই শ্বশুরবাড়িতে ফিরে এসে ঘর থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। যাওয়ার আগে সন্তানদের হাতে কিছু টাকা দিয়ে খাবার খেয়ে নিতে বলেন এবং মায়ের খোঁজ জানতে চাইলে জানান, তিনি পরে বাড়ি ফিরবেন।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মিলি বেগম বাড়িতে ফিরে না আসায় তার মা বেলী বেগম পুকুরপাড়ে গিয়ে পানিতে ভাসমান অবস্থায় মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা ঘটনাটি পুলিশকে জানায়।
খবর পেয়ে কাশিয়ানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, আল আমিন তার স্ত্রীকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। ঘটনার পর তার দ্রুত পালিয়ে যাওয়া সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে।”
এ বিষয়ে কাশিয়ানী-মুকসুদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাফিছুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি পারিবারিক বিরোধজনিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত আল আমিনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...