শ্রমিক শূন্য নাকুগাঁও স্থলবন্দর।
বিজ্ঞাপন
এর ফলে বন্দরনির্ভর ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কর্মসংস্থান হারিয়েছেন শত শত লোড-আনলোড শ্রমিক, আর স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরকেন্দ্রিক নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় সরকারের রাজস্ব আদায়ও প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
নাকুগাঁও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ও আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডালু-তুরা জাতীয় মহাসড়ক (এনএইচ-২১৭) দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। ফলে ডালু সীমান্ত হয়ে নাকুগাঁও বন্দরে পণ্য পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পশ্চিম গারো হিলস ও দক্ষিণ গারো হিলস জেলার ডালু-মহেন্দ্রগঞ্জ-গারোবাঁধা-তুরা এবং ডালু-তুরা সড়কের একাধিক স্থানে পাহাড় ধস ও মাটি সরে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে পাথর, কয়লাসহ পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে রয়েছে। সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে একের পর এক দুর্ঘটনাও ঘটেছে।
এ অবস্থায় গত ১০ জুলাই ভারতের ডালু অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর এক জরুরি বৈঠকে সড়ক সংস্কার শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশমুখী ভারী পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিদিন শত শত ট্রাকে পাথর ও কয়লা আমদানির ওপর নির্ভরশীল এই স্থলবন্দর এখন প্রায় জনশূন্য। ব্যবসা বন্ধ থাকায় আমদানি-রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং শ্রমিকেরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
তাঁদের ভাষ্য, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল) ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করলেও টানা বৃষ্টির কারণে তা ধীরগতিতে চলছে। দ্রুত সংস্কার শেষ না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে ভারতের তুরা শহরের ব্যবসায়ী বিজন মারপি বলেন, তুরা-ডালু সড়কের সংস্কারকাজ দ্রুত এগোচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে।
নাকুগাঁও স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, ডালু বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ধরেন সাংমা তাঁদের জানিয়েছেন, নতুন করে ভারী বৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢল না হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সড়ক সংস্কার শেষ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পণ্য পরিবহনও স্বাভাবিক হওয়ার আশা রয়েছে।
নাকুগাঁও স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'ভারতের অংশে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় প্রায় এক মাস ধরে পাথর ও কয়লাবাহী কোনো ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেনি। এতে বন্দরের রাজস্ব আয় প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ব্যবসায়ী ও শ্রমিক—উভয়েই ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে গত বুধবার সকালে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে ভুটানের একটি পাথরবোঝাই ট্রাক বন্দরে এসেছে।'
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...