বিজ্ঞাপন
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল ৫টায় রাজাপুর বাইপাস মোড়ে আয়োজিত এ পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। এর আগে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে রাজাপুরের বাঘড়ী এলাকা থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রাটি থানা সড়ক ও উপজেলা সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাইপাস মোড়ে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীদের ‘ইনকিলাব-ইনকিলাব’ ও ‘জিন্দাবাদ-জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
পথসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, এনসিপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহামান তুহিন, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আলী আহসান জুনায়েদ, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা।
পথসভায় বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “যারা টাকা দিয়ে ভোট কিনে নির্বাচিত হয়, তারা কখনো জনগণকে ভয় পায় না। জনগণের কথা তারা শোনে না। আমরা জনতার কথা শুনতে এসেছি। আমরা জনতার টাকায় নির্বাচিত হয়েছি।”তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন। সভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ রাজাপুরের কৃতীসন্তান ও এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিনকে আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, “বাংলার বুকে আর হাদি ফিরে আসবে না, কিন্তু এখন বাংলার ঘরে ঘরে হাদি তৈরি হয়েছে। ওই জুলাইতে পুলিশ হাসিনাকে বলেছিল একটারে মারি আরেকটা আসে। এই জুলাইকে ধারণ করে আগামীর রাষ্ট্র নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলবে। যে পতন ২৪-এ শুরু হয়েছে, সেই পতনের ধারাবাহিকতা এই প্রজন্ম অব্যাহত রাখবে। যদি কেউ আবার এই মাটিতে স্বৈরাচার হয়ে উঠলে তার পরিণতিও হাসিনার মতো হবে।”
রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, “আমাদের সত্তর শতাংশ জনগণ গণভোটে এর পক্ষে ভোট দিয়েছিল, কিন্তু সেই গণভোট বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমরা চেয়েছিলাম বিচার ব্যবস্থা উন্নতি, পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে আইনি প্রক্রিয়ায় সকল কিছুর পরিবর্তন। কিন্তু তার পরিবর্তন লক্ষ্য করছি না। নির্বাচনের পর যেখানে আমরা সত্তর শতাংশ গণভোটের পক্ষে দেখেছিলাম, সেই জায়গা থেকে বিএনপি সরকার এখন জনগণের সঙ্গে প্রহসন করছে, তামাশা করছে, মশকরা করছে। ৭০ শতাংশ ভোটের রায়কে অ্যাভয়েড করে কোনো সরকার রাষ্ট্র চালাইতে পারে না। বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে না পারলে আপনারা সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবেন না। আপনারা যে রাষ্ট্র নির্মাণ করতে চান, সেই রাষ্ট্র বিনির্মাণে আপনাদেরকে সহযোগিতা করতে আমরা চাই না, আমরা চাই জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আপনারা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, সেই সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানিয়ে আপনাদেরকে সহযোগিতা করতে। মনে রাখবেন, এটা বাংলাদেশ গড়ার লড়াই, আপনারা সকলে এনসিপির সঙ্গে থাকবেন।”
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহামান তুহিন বলেন, “আমাদের ঝালকাঠিতে অনেক বড় বড় ব্যক্তি তৈরি হয়েছে, শেরেবাংলার মতো মহান ব্যক্তি এবং তাদের মতো অনেক মহান ব্যক্তি এই ঝালকাঠিতে জন্মগ্রহণ করেছেন। তারই পাশাপাশি আমরা দেখতে পেয়েছি ঝালকাঠিতে অনেক মাদক ব্যবসায়ী, অনেক চাঁদাবাজ, অনেক দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করেছেন। মাদকের যে ছয়লাভ ছিল, তা এখনো আছে। গরু চুরি আগেও ছিল, এখনো আছে, এমনকি আগের থেকে আরও বেড়েছে। আমরা একটা সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই, যে বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল আমাদের শহীদ ওসমান হাদি।”
আরিফুর রহামান তুহিন আরও বলেন, আমাকে যদি আপনারা আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, তাহলে জনগণের কোনো ভোগান্তি হবে না। আমি জনগণের প্রতিনিধি হয়ে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে চাই। মানুষের সমস্যা সমাধান, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও উন্নত রাজাপুর উপজেলা গড়ে তুলতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই হবে আমার শক্তি, আর জনগণের কল্যাণেই আমি নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...