Logo Logo

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি

এক বছরেও মেলেনি ক্ষতিপূরণের অর্থ, কাটেনি জটিলতা


Splash Image

ছবি : সংগৃহিত

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলেও হতাহতদের ক্ষতিপূরণের অর্থ নিয়ে জটিলতা কাটেনি। অভিভাবকরা বলছে, এ ঘটনায় সরকার যে ক্ষতিপূরণ দিতে চাইছে, তা ‘অপ্রতুল’। আহত অনেক শিক্ষার্থীর চিকিৎসার খরচই এর কয়েক গুণ।


বিজ্ঞাপন


অন্যদিকে, সরকারের তরফ থেকেও নতুন করে এ নিয়ে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সবমিলিয়ে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দিন কাটছে হতাশা আর বিষণ্ণতায়।

গত বছরের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হন। নিহতদের মধ্যে মাইলস্টোন স্কুল শাখার ২৮ জন শিশু, তিনজন অভিভাবক, তিনজন শিক্ষক ও একজন অফিস সহকারী ছিলেন। আহতদের অনেকেই এখনো ফিরতে পারেননি স্বাভাবিক জীবনে। ওই ঘটনায় তদন্ত কমিশনের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এখনো প্রকাশ হয়নি। কিন্তু আংশিক প্রতিবেদনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির দায় উঠে আসে। বিল্ডিং কোড না মেনে এসব ভবন করায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) তা সরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেয়।

সানজিদা বেলায়েতের তিন সন্তান মাইলস্টোনের উত্তরা দিয়াবাড়ী শাখায় পড়াশোনা করছে। সে দিনের সেই দুর্ঘটনায় তার এক মেয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়। এই অভিভাবক বলেন, ‘ট্রমাটাইজ শুধু আমার সন্তান নয়, আমাদের পুরো পরিবার। বাচ্চারা আলোতে যেতে ভয় পায়। একা থাকতে পারে না। এই ট্রমা তারা কত দিন বয়ে বেড়াবে তাও জানি না।’ এই অভিভাবক বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার অনেক চেষ্টা করেছি। অনেক মহলে ধরনা দিয়েছি। কিন্তু আজও তার দেখা পাইনি। এই এক বছর কেউ খবরও রাখেনি, কীভাবে চলছে নিহতদের পরিবারগুলো।’

মাইলস্টোন কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আহতদের ভাইবোনের টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে। উত্তরা থেকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে যাওয়ার জন্য পরিবহনব্যবস্থা চালু ও শিক্ষার্থীদের ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ।

আজ মঙ্গলবার মাইলস্টোন দুর্ঘটনার স্মরণে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে একাধিক নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এই অনুষ্ঠানে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অভিযোগ উঠেছে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, যারা মামলা করেছেন তাদের দূরে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে নিহতদের স্মরণ ও আহতদের সমবেদনা জানাতে দুই দিনের কর্মসূচি পালন করবে মাইলস্টোন কলেজ। দিয়াবাড়ী ক্যাম্পাস ও সব শাখায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের অংশগ্রহণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাহিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কবর জিয়ারত, দোয়ার ব্যবস্থা ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। হতাহতদের শ্রদ্ধা জানাতে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের উপস্থিতিতে সশ্রদ্ধ সালাম ও নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে।

কী ঘটেছিল সেদিন:

২০২৫ সালের ২১ জুলাই, দিনটি ছিল সোমবার। দুপুরে সোয়া ১টা নাগাদ ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজিআই মডেলের জঙ্গিবিমান বিধ্বস্ত হয়। মুহুর্তেই এক মর্মান্তিক দৃশ্যের অবতারণা হয় সেখানে। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনে পুড়ে যায় ছোট্টো শিশুদের কোমল শরীর।

এ ঘটনায় অন্তত ৩৬ জন নিহত হন। আহত হন শতাধিক। হতাহতদের অধিকাংশই শিশু। সেদিন প্রাণ হারান উড়োজাহাজের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামও। সরকারি হিসাবে অবশ্য নিহতের সংখ্যা ৩৫; আহতের সংখ্যা ৬৪।

এ ঘটনার একদিন পর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আনিসুর রহমান রায়হান জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করেন। এই রিট আবেদনে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি সরকারকে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।

রিট আবেদন আমলে নিয়ে ঘটনা তদন্তে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে নিহতদের পাঁচ কোটি করে এবং আহতদের এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রুল জারি করা হয়েছিল।কয়েক দফা বৈঠকের পর ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ, অর্থসহায়তা ও চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর একটি সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

সভায় আহতদের প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ লাখ এবং নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে হিসাবে পাঁচ লাখ টাকা করে আহতদের ৬৪ জন পাবে ৩ কোটি ২০ লাখ এবং ২০ লাখ টাকা করে নিহতদের ৩৫ পরিবার পাবে সাত কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...