বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের বোয়ালমারী গ্রামের মফিজুল সরকারের ছেলে সাইফুল ইসলামের মালিকানাধীন উর্মি পোল্ট্রি ফার্মে চারটি সেটে প্রায় ১৬ হাজার মুরগি পালন করা হচ্ছে। তবে আধুনিক কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়াই খামারটি পরিচালিত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উর্মি পোল্ট্রি ফার্মের পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের একটি লাইসেন্স থাকলেও সেটি ২০২২ সালের পর আর নবায়ন করা হয়নি। একই এলাকার মেসার্স কবির পোল্ট্রি ফার্মে গিয়ে মালিক জহিরুল ইসলামকে পাওয়া না গেলেও সেখানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়াই দুটি সেটে মুরগি পালনের চিত্র দেখা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, দুটি খামার থেকেই প্রতিদিনের বিষাক্ত বর্জ্য খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে। ফলে আশপাশের উর্বর কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা দিন দিন কমে যাচ্ছে এবং পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় ছলছলা নদী। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বৃষ্টির পানিতে পোল্ট্রি বর্জ্য ধুয়ে সরাসরি নদীতে গিয়ে মিশছে। এছাড়া পাইপের মাধ্যমেও বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খামারের দুর্গন্ধে জমিতে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দূষিত পানির কারণে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া ছলছলা নদীর পানিতে নামলে শরীরে চুলকানি ও ঘা হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। তারা দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করেন।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, পচা বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধ এবং মশা-মাছির উপদ্রবে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এর প্রভাবে এলাকায় চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যা বাড়ছে। একাধিকবার আপত্তি জানানো হলেও খামার কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে দাবি তাদের।
অভিযোগের বিষয়ে উর্মি পোল্ট্রি ফার্মের মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, “নিজস্ব জমির ওপর দিয়ে বর্জ্য ফেলেছি, এটি আমার ভুল ছিল। এখন থেকে নদীতে কোনো বর্জ্য বা ময়লা ফেলা হবে না।”
অন্যদিকে মেসার্স কবির পোল্ট্রি ফার্মের মালিক জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমি হাউজে বর্জ্য সংরক্ষণ করি। দুই থেকে তিন মাস পরপর নদীতে বর্জ্য ফেলা হয়।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল হক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখার পর তিনি সরেজমিনে খামার পরিদর্শন করেছেন। খামার কর্তৃপক্ষকে পানি মিশ্রিত বর্জ্য নির্দিষ্ট গর্তে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্য থেকে যাতে কারও ক্ষতি না হয়, সে জন্য বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চগড় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল গফুর বলেন, “নদী বা ফসলি জমি দূষণ করে কোনো খামার পরিচালনার সুযোগ নেই। বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। এখন অবগত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে জানতে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...