বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরাকে আইএস-বিরোধী বৈশ্বিক জোটের সামরিক অভিযানের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব বিদেশি সেনা প্রস্থান করবে। আগামী ১ অক্টোবর ইরাকের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হতে চলেছে, কারণ সেদিন থেকে দেশে আর কোনো বিদেশি সেনার উপস্থিতি থাকবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির বৈঠকের ভিত্তিতেই মার্কিন সেনাদের প্রস্থানের এই চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন সফরের সময় ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আল জাইদির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরাক এখন থেকে পরস্পরের সার্বভৌমত্ব ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থকে সম্মান জানাবে। একই সঙ্গে উভয় দেশ অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে মনোযোগ দেবে।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করতে দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল মার্কিন বাহিনী। অভিযানের ৯ মাসের মাথায় গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম হোসেন এবং দীর্ঘ ৩ বছর বিচার চলার পর ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।
প্রাথমিক শর্ত অনুযায়ী সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুর পরই মার্কিন বাহিনীর ইরাক ত্যাগের কথা ছিল। তবে তাঁর মৃত্যুর পরপরই সেখানে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান ঘটে। ফলে এই গোষ্ঠীকে নির্মূল করতে ইরাকে সেনা অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ওয়াশিংটন।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর পেন্টাগনে যোগাযোগ করা হয়। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক এবং জোট অংশীদাররা আইএসকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য প্রদর্শন করেছে। বর্তমানে ইরাকে যেসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রয়েছে, তাদের দমন করতে ইরাকি সেনাবাহিনী এখন পুরোপুরি সক্ষম।
তবে বর্তমানে ইরাকে কতজন মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন, সে সম্পর্কিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি পেন্টাগনের ওই কর্মকর্তা।
সূত্র : আলজাজিরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...