বিজ্ঞাপন
ঐতিহাসিক ও ক্রিকেটীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে ডারউইনের এই পারফরম্যান্স বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ২০০৩ সালে শেষবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ, যেখানে পতুর্গা ও ডারউইনে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি দল। এরপর দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে অজিদের মূল ভেন্যুগুলোতে লাল বলের সিরিজ খেলার সুযোগ মেলেনি। সেই দীর্ঘ বিরতির পর একই ডারউইনে ফিরেই দাপুটে পারফরম্যান্সে অতীত ইতিহাসকে নতুন করে রচনা করলেন নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
ম্যাচের প্রথম দিনেই বাংলাদেশকে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দেওয়ার পেছনের নায়ক দলের গতিময় পেস আক্রমণ। তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও ইবাদত হোসেনের তোপের মুখে পড়ে অজি ব্যাটাররা ডারউইনের উইকেটে থিতু হতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়াকে দুই শ রানের নিচে অলআউট করার পথে অজিদের ১০টি উইকেটের সব কটিই তুলে নেন বাংলাদেশের পেসাররা। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহসে ইনিংসের সবকটি উইকেট পেসারদের ঝুলিতে যাওয়ার ঘটনা এটি মাত্র দ্বিতীয়বার। মূল একাদশে নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলামের মতো নিয়মিত পেসারদের অনুপস্থিতি বিন্দুমাত্র টের পেতে দেননি একাদশে থাকা তিন পেসার।
বাংলাদেশি পেস আক্রমণের আসল ঝাপটাটা সামলাতে হয়েছে অজি টপ ও মিডল অর্ডারকে। মাত্র ৫৫ রান খরচায় ৬ উইকেট শিকার করে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং পারফর্ম প্রদর্শন করেন হাসান মাহমুদ। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে টেস্টের এক ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তি গড়লেন তিনি। অন্য প্রান্ত থেকে তাকে দুর্দান্ত সঙ্গ দেন ইবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদ, দুজনেই তুলে নেন ২টি করে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। বাংলাদেশের এই সাঁড়াশি আক্রমণের সামনে অজি তারকা ব্যাটার স্টিভেন স্মিথ ছাড়া আর কেউ প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। স্মিথের ৭১ রানের সংগ্রামপূণ ইনিংস বাদ দিলে স্বাগতিক দলের আর কোনো ব্যাটার ২৫ রানের কোটাও স্পর্শ করতে ব্যর্থ হন।
অস্ট্রেলিয়াকে ২০০ রানের আগেই বেঁধে ফেলার পর ব্যাট হাতেও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের দুই উদ্বোধনী ও টপ অর্ডার ব্যাটার। ইনিংসের শুরুতে সাদমান ইসলাম ২০ রান করে মিচেল স্টার্কের শিকার হলেও প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নেন মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান। দুজন মিলে অপরাজিত ৬০ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন। তানজিদ ৩২ রানে এবং অভিজ্ঞ মুমিনুল ৩৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ৫৩ ওভারে ১৯৮/১০ (স্মিথ ৭১, ওয়েদারাল্ড ২৩, হেড ২২, ক্যারি ১৯; হাসান ৬/৫৫, ইবাদত ২/৩৯, তাসকিন ২/৫৫, মিরাজ ০/১২, তাইজুল ০/২৪)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৪ ওভারে ৯৬/১ (মুমিনুল ৩৫*, তানজিদ ৩২*, সাদমান ২০; স্টার্ক ১/২৮, হ্যাজলউড ০/১৯, কামিন্স ০/১৪, গ্রিন ০/১২, লায়ন ০/১৬)।—প্রথম দিন শেষে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...