বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাকৃতিক পাথরের বড় বড় বোল্ডার বা পাথরের চাঁই দিয়ে বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে কোনো ধরনের সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীতে বিপুল পরিমাণ পানি আটকে রাখা সম্ভব হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষিকাজে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
বিশেষ করে লাদাখের কৃষকরাই এই উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন। পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় এমন অনেক জমিতেও এখন সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যেখানে পানির সংকটের কারণে আগে চাষাবাদ করা যেত না।
লাদাখের কৃষকদের দীর্ঘদিন ধরেই পানির সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। অঞ্চলটির ভূপ্রকৃতিতে থাকা অসংখ্য গিরিখাতের কারণে সিন্ধু নদের পানির প্রবাহ ও স্তর অনেক সময় স্বাভাবিকের তুলনায় নিচে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তখন নদীর পানি এতটাই নিচে নেমে যায় যে, অনেক ক্ষেত্রে পাম্পের সাহায্যেও পানি তোলা সম্ভব হয় না।
এর সঙ্গে সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তির কারণে নদীর পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারতের কিছু সীমাবদ্ধতাও ছিল। ফলে দীর্ঘদিনের জলসংকটে লাদাখের হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল।
নতুন বাঁধের কারণে প্রায় ৪ কোটি লিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। পরে ইগু ফে খালসহ বিভিন্ন খালের মাধ্যমে সেই পানি অপেক্ষাকৃত শুষ্ক কৃষিজমিতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, সিন্ধু নদকে ঘিরে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কও গত এক বছর ধরে উত্তেজনাপূর্ণ। ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মিরের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামের বৈসরণ উপত্যকায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ২৫ জন পর্যটক নিহত হন। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার শাখা সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) ওই হামলা চালায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই হামলার পর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি’ স্থগিত করে ভারত। এখনো চুক্তিটি স্থগিত রয়েছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে গত এক বছর ধরে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে।
এরই মধ্যে লাদাখের উপসাই এলাকায় সিন্ধু নদের ওপর নির্মিত এই বাঁধকে নদটির ভারতীয় অংশে নির্মিত প্রথম বাঁধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...