বিজ্ঞাপন
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্রেপ্তার নাদিয়া বেগমকে বরিশাল জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলাকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠী গ্রামে অভিযান চালিয়ে নাদিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন সকালে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেনের দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার নাদিয়ার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও মাদক বিক্রির নগদ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে নাদিয়ার স্বামী এনামুল হক মন্টু গাজী পুলিশের এই দাবির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। সাংবাদিকদের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, কৃষ্ণকাঠীতে জমিজমা নিয়ে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম রেজার সঙ্গে তাদের বিরোধ রয়েছে। ওই জমি জবরদখলের উদ্দেশ্যে সেলিম রেজা পুলিশকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে তার স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এনামুল হক মন্টুর দাবি, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। সে সময় বাড়িতে নাদিয়া ছাড়া কোনো পুরুষ সদস্য ছিলেন না। পুলিশ দরজা-জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা নিয়ে যায় এবং পরে এর মধ্য থেকে ১৯ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধারের কথা দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তারের সময় নাদিয়ার কাছ থেকে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। থানায় নেওয়ার পর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নাদিয়ার আড়াই বছরের একটি কন্যাশিশু রয়েছে বলেও জানান তার স্বামী।
এ বিষয়ে বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মাসুম বিল্লাহ বলেন, বাকেরগঞ্জে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে নাদিয়া বেগম নামে ওই নারীকে আটক করা হয়েছিল। জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর আগেই তার মৃত্যু হয়।
মাসুম বিল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারীর সঙ্গে থাকা মাদকদ্রব্য ইয়াবা সেবনের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত এবং চিকিৎসকের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে এবং মাদক নির্মূলে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিবেদক- মোঃ জাহিদুল ইসলাম, বরিশাল।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...