Logo Logo

ইউরোপজুড়ে বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি : খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ


Splash Image

রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্ত অতিক্রম করে যুদ্ধ ইউরোপের অন্যান্য ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়তে পারে—এমন তীব্র আশঙ্কার মুখে সমগ্র মহাদেশজুড়ে অভূতপূর্ব সামরিক ও বেসামরিক যুদ্ধপ্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে।


বিজ্ঞাপন


পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী সুওয়ালকি করিডোরের কাছে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র বেলারুশের সাম্প্রতিক বৃহৎ আকারের সামরিক মহড়া ন্যাটোর সার্বভৌমত্বের জন্য নতুন ও গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে। ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই সীমান্ত অঞ্চলটি বাল্টিক রাষ্ট্রসমূহকে ন্যাটোর মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার একমাত্র স্থলপথ হওয়ায় এখানে যে কোনো সম্ভাব্য আক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জরুরিভিত্তিতে সংরক্ষিত ক্যানজাত খাদ্য ও পানীয় জল মজুত রাখার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশটির সেনাপ্রধান চলমান পরিস্থিতিকে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় হিসেবে উল্লেখ করে সতর্কবার্তা জারি করেছেন। একইভাবে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ মহাদেশের স্বাধীনতা ও শান্তি সুরক্ষার জোর আহ্বান জানিয়ে দেশের হাসপাতালগুলোকে যে কোনো জরুরি বা হামলাজনিত পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সম্ভাব্য হাইব্রিড হামলা থেকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় নতুন নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টুস্ক রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চরম সম্ভাবনা নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন। এমনকি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা দেশ সুইজারল্যান্ডও সশস্ত্র আক্রমণ মোকাবেলায় একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল অনুমোদন করেছে।

ন্যাটো জোটের সিদ্ধান্তহীনতা ও প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করার লক্ষ্যে রাশিয়া সাইবার আক্রমণ, অগ্নিকাণ্ড, নাশকতা এবং ড্রোন অনুপ্রবেশের মতো অস্পষ্ট ‘গ্রে জোন’ কৌশল প্রয়োগ করছে। সম্প্রতি মার্কিন কৌঁসুলিরা সিআইএ ও ইউরোপীয় অবকাঠামোতে অন্তর্ঘাতমূলক হামলার চক্রান্তের অভিযোগে রুশ গোয়েন্দা সংস্থা সংলগ্ন একটি চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর যুক্তরাষ্ট্রও এই হুমকির ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছে।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে সম্ভাব্য আক্রমণের ক্ষেত্রে ধ্বংসাত্মক সামরিক জবাব দেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ন্যাটো প্রতিশ্রুতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ইউক্রেন যুদ্ধের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে পুরো ইউরোপজুড়ে বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সুরক্ষা জোরদার করা হচ্ছে, যাতে যে কোনো বৈরী আক্রমণ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা যায়।

সূত্র: সিএনএন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...