বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভাণ্ডারিয়া-কাঁঠালিয়া সড়কের আমান উল্লাহ কলেজের সামনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের মালামালসহ আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কাকডাঙ্গা এলাকার মো. বাকি বিল্লাহ সিকদার (৫৫), বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরকালেখা এলাকার মো. শামীম বেপারী (৪৫) এবং শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কুলকুড়ি এলাকার মো. সিয়াম সরদার (১৯)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে আনা বিপুল পরিমাণ শাড়ি ও পাঞ্জাবির চালান একটি ট্রাকে করে পরিবহন করা হচ্ছিল। গোপন খবরের ভিত্তিতে আমান উল্লাহ কলেজের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশিকালে ট্রাকটি থেকে বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় উন্নত মানের শাড়ি ও পাঞ্জাবি উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক বাকি বিল্লাহ সিকদার দীর্ঘদিন ধরে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া বাজার ও পার্শ্ববর্তী রায়হানপুর ব্রিজঘাট এলাকায় ভাঙারির ব্যবসার আড়ালে চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয়দের ধারণা, কাকচিড়া ব্রিজঘাট এলাকা থেকেই পণ্যগুলো ট্রাকে বোঝাই করে ঢাকার উদ্দেশে নেওয়া হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, এর মাত্র তিন দিন আগে পাথরঘাটার কাকচিড়া সংলগ্ন বিষখালী নদী থেকে কোস্ট গার্ড প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাই পোশাকসহ পাঁচজনকে আটক ও একটি ফিশিং বোট জব্দ করেছিল। স্থানীয় মহলে প্রবল গুঞ্জন রয়েছে, বিষখালী নদীর সেই বিশাল চোরাচালানেরই একটি অংশ পাচার করার সময় ভাণ্ডারিয়ায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। এছাড়া কিছুদিন আগে একই এলাকার সাড়ে ৬ লাখ টাকার চোরাই মালামালসহ গ্রেপ্তার হওয়া সুজন সিকদারের সঙ্গেও বাকি বিল্লাহর ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আনা পোশাকসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং পরিবহনকাজে ব্যবহৃত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাথরঘাটার ৭ কোটি টাকার চালানের সঙ্গে এর যোগসূত্র রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা যাবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...