Logo Logo

পুরোনো প্রযুক্তি ও বাড়তি ব্যয়ে অস্তিত্ব সংকটে ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী লবণশিল্প


Splash Image

একসময় বাসন্ডা নদী ও ঝালকাঠি নদীবন্দর ঘিরে দিনরাত চলত লবণের জমজমাট কর্মযজ্ঞ। কক্সবাজারের উপকূল থেকে নৌপথে ঘাটে আসত অপরিশোধিত কাঁচা লবণের ট্রলার। কারখানার চুল্লি, মেশিনের গর্জন আর শত শত শ্রমিকের হাঁকডাকে মুখর থাকত এই জনপদ। ব্রিটিশ আমলে ‘দ্বিতীয় কলকাতা’ খ্যাত দক্ষিণাঞ্চলের এই অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্রে সেই সোনালী অতীত এখন ফিকে হতে বসেছে। একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পে নেমেছে বড় ধস। ছোট-বড় ২০টির বেশি মিলের মধ্যে বর্তমানে কোনোমতে টিকে রয়েছে মাত্র আটটি।


বিজ্ঞাপন


বর্তমানে চালু থাকা মিলগুলোর মধ্যে নিউ ঝালকাঠি, এ.আর.এস, দি ক্রিসেন্ট, লাকী, ধাঁন সিড়ি, শরীফ, তাজ ও মনিলাখ সল্ট উৎপাদন সচল রেখেছে। বন্ধ হয়ে গেছে মিতালী, নূর, কুমিল্লা, মদিনাসহ বহু কারখানা। চালু থাকা আটটি মিলের মধ্যে তিনটি আধুনিক এবং পাঁচটি সনাতন প্রযুক্তিতে চলছে। এসব কারখানায় মাসে গড়ে ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টন এবং বছরে ২০ হাজার থেকে ২৬ হাজার টনের বেশি ভোজ্য ও শিল্প লবণ উৎপাদিত হয়, যার বার্ষিক বাজারমূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রায় এক হাজার শ্রমিকের জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে এই আটটি মিলের সঙ্গে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, করপোরেট কোম্পানিগুলোর আধুনিক স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন এবং চীন, ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা লবণের আগ্রাসনে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। বড় কোম্পানির প্যাকেটজাত লবণ বাজারে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও স্থানীয় মিলের লবণ খুচরায় মাত্র ১৮ থেকে ২০ টাকায় মিলছে। দামে সস্তা হলেও বিপণন ও ব্র্যান্ডিং প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন তারা।

তাজ সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক মো. ইলিয়াছ এবং নিউ ঝালকাঠি সল্টের আবু বক্বর সিদ্দিক জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কক্সবাজার থেকে কাঁচামাল আনার পরিবহন খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। তার ওপর আধুনিক মেশিনারিজ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ মিলছে না। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

মিল সংকুচিত হওয়ায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানে। আগে যেখানে দুই সহস্রাধিক শ্রমিক কাজ করতেন, এখন তা নেমে এসেছে হাজারে। আগে সপ্তাহে পুরো সময় কাজ মিললেও এখন মিলছে মাত্র ৪-৫ দিন। শ্রমিক আব্দুল লতিফ ও রুস্তম আলী জানান, কাজ কমায় দৈনিক আয় কমেছে, যার ফলে পরিবার নিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঝালকাঠি বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক মো. আল আমিন বলেন, "যোগাযোগ ও পুরোনো যন্ত্রপাতির কারণে উদ্যোক্তারা চাপে আছেন। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আর্থিক সহায়তা এবং কারখানাগুলো আধুনিকায়নে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।"

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...