বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে শহরের ভুঁইয়া বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইম মোল্লা মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার বানিয়াবহু গ্রামের সামছু মোল্লার ছেলে। সে পরিবারের সঙ্গে মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ বাঁশতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত এবং স্থানীয় একটি দোকানে কাজ করত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুঁইয়া বাড়ি এলাকার ওই ভবনের দ্বিতীয় তলা শামীম রাজিন নামে এক ইঞ্জিনিয়ারের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। অ্যাপার্টমেন্টটির জানালাগুলো আগে থেকেই অপ্রস্তুত ছিল। ভাড়াটে শামীম রাজিন জানালা লাগানোর বিষয়ে বাড়ির মালিক সাইফুল ফকিরকে জানালে তিনি অফিস ভাড়ার অগ্রিম জামানত হিসেবে দেওয়া ২ লাখ টাকা থেকে খরচ করে কাজ করিয়ে নিতে এবং পরে হিসাব বুঝিয়ে দিতে বলেন। এরপর শামীম রাজিন নিজেই শ্রমিক ঠিক করে জানালা লাগানোর কাজ শুরু করান।
মঙ্গলবার সকালে জানালা লাগানোর জন্য দেয়ালের অপর পাশে যাওয়ার চেষ্টা করে সাইম। এ সময় সেখানে থাকা একটি বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সাইমের মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত পরিবার জানিয়েছে, এ মৃত্যুর জন্য কাকে দায়ী করবে, তা তারা বুঝে উঠতে পারছে না। তাদের ভাষ্য, স্থানীয় লোকজন ৩ লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন।
নিহত সাইমের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রথমে ছেলের মৃত্যুর বিচার দাবি করেন। তবে পরে স্থানীয়দের চাপে তিনি আর এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি কি আর আমার ছেলে ফেরত পাব?’ এরপর তিনি আর কিছু বলেননি।
ঘটনার পর থেকে বাড়ির মালিক সাইফুল ফকির পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্থানীয়রা বসে ঘটনাটি মীমাংসা করে দিয়েছেন। তবে ৩ লাখ টাকায় মীমাংসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
স্থানীয় আলমগীর হোসেন অভিযোগ করেন, বাড়ির মালিক সাইফুল ফকিরের অবহেলা ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভবন নির্মাণের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ভবনটির কারণে স্থানীয়দেরও অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পৌরসভা থেকে ভবন নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও সাইফুল ফকির তা মানছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে ভাড়াটে ইঞ্জিনিয়ার শামীম রাজিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাড়ির মালিক দূরে থাকেন। তিনিই শ্রমিক ঠিক করে কাজ করাতে এবং কাজের ভাউচার দিতে বলেছিলেন। তবে ঘটনার দায় নিজের ওপর না নিয়ে তিনি বাড়ির মালিককেই দায়ী করেন।
এ বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দায়িত্বে থাকা এক উপপরিদর্শক (এসআই) জানান, ঘটনার পর উভয় পক্ষ বসে আপস-মীমাংসা করেছে। এ মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন—এ মর্মে তাঁরা থানায় লিখিত দিয়েছেন। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ভবনটির নির্মাণ অনুমোদনের বিষয়ে মাদারীপুর পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ আরাফাত জামান জানান, ভবনটির অনুমোদনের জন্য লিটন ফকির নামে একজনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। তাঁর ভাই সাইফুল ফকির ভবনটি দেখাশোনা করেন।
আরাফাত জামান বলেন, ‘আমরা ওই ভবনের অনুমোদন এখনো দিইনি। এটি অনুমোদনহীন একটি অবৈধ ভবন।’
এক কিশোর শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে অর্থের বিনিময়ে আপস-মীমাংসা এবং অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণের বিষয়গুলো সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...