বিজ্ঞাপন
এলপিজি কোম্পানিগুলো প্রতি কেজি গ্যাসের মজুত ও বোতলজাতকরণ খরচ, ঋণ ও অর্থায়ন ব্যয়, মুনাফা ও কমিশন, খুচরা বিক্রেতার কমিশনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এসব প্রস্তাবের ফলে ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত খরচের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বেসরকারি এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন লোয়াব বলছে, পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ও আমদানি খরচ কমলে দেশের বাজারেও দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
লোয়াবের সহসভাপতি হুমায়ূন রশীদ বলেন, দাম যথাযথভাবে সমন্বয় করা প্রয়োজন, যাতে বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানে না পড়ে। প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসান করলে এলপিজি আমদানি কমে যেতে পারে, এতে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বাড়লে এবং সৌদি আরবের কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) কমলে দেশের বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে। পরিবহন ব্যয় কমলে সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তবে কোম্পানিগুলোর ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন স্থানীয় এলপিজি পরিবেশকরা। তাঁদের দাবি, পরিবেশকদের কমিশন বাড়ানোর দাবির বিপরীতে কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অর্থ সম্পাদক আবু তাহের কোরেশী বলেন, কোম্পানিগুলোর ব্যয় কী কারণে এবং কোন খাতে বাড়ছে, তা তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। এত দিন পর ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে আনা এবং এ নিয়ে গণশুনানির আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, গ্যাসের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে ভোক্তারা বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে পারেন। আবার দাম কমলে কোম্পানিগুলোর ব্যয়ও কমবে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এদিকে, বিইআরসির গণশুনানি বয়কটের কথা জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম। তাঁর অভিযোগ, ভোক্তার অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে বিইআরসি।
শামসুল আলম বলেন, ২০২১ সালে এলপিজির দাম নির্ধারণের সময় প্রতি বোতলে ৫৫ টাকা বেশি দাম বাড়ানো হয়েছিল বলে তাঁরা অভিযোগ করেছিলেন। গত পাঁচ বছরে সেই বাড়তি দামের প্রভাব কীভাবে সমন্বয় হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে এবং গণশুনানি ছাড়াই তা কার্যকর করেছে। ফলে বর্তমান গণশুনানির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
২০২১ সালে প্রথমবারের মতো সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণে গণশুনানির আয়োজন করে বিইআরসি। তখন নির্ধারিত বিভিন্ন চার্জকে ভিত্তি ধরে পরবর্তী সময়ে মাসভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...