বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, ভোরে বনলতা হলের একটি জানালা দিয়ে ল্যাপটপ নেওয়ার চেষ্টা করেন এক ব্যক্তি। বিষয়টি টের পেয়ে ছাত্রীরা তাকে ধাওয়া করলে তিনি ল্যাপটপটি কাদায় ফেলে দেয় এবং দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। এছাড়া একই হলের আরেক শিক্ষার্থীর দুই হাজার ৬০০ টাকা চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, একই সময়ে অপরাজিতা হলে বোরকা, কানের দুল, চার্জার, ইয়ারফোন ও চার্জার লাইটসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন শিক্ষার্থীরা।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে বনলতা হলের এক শিক্ষার্থী জানান, রাত দুইটার দিকে পড়াশোনা শেষ করে টেবিলে ল্যাপটপ রেখে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। ভোর আনুমানিক চারটায় চিৎকারের শব্দে তার ঘুম ভাঙে এবং টেবিলের ল্যাপটপটি দেখতে পাননি। পরে নিরাপত্তাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় চোর ল্যাপটপটি ফেলে পালিয়ে যায়।
হলের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, গরমের কারণে জানালা খুলেই তারা ঘুমান। ঘটনার সময় নিচতলা থেকে টাকা-পয়সা, চার্জার ও ইয়ারফোনসহ নানা জিনিস চুরি হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন ছাত্রীর শরীরে চোরের অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের মতো লজ্জাজনক ঘটনাও ঘটেছে। ওই সময় একজন নিরাপত্তাকর্মী একা চিৎকার করলেও গলা ভাঙা থাকায় অন্য কাউকে ডাকতে পারেননি। হলের নিরাপত্তা জোরদারে নজরদারি বাড়ানো এবং সিসিটিভি ক্যামেরা বৃদ্ধির দাবি জানান তারা।
ফার্মেসির এক মাস্টার্সের শিক্ষার্থী বলেন, হলে এমন ঘটনা একেবারেই কাম্য নয়। প্রশাসনের থেকে এটি অপ্রত্যাশিত। রাতের বেলা হলের দারোয়ানদের আরও বেশি সজাগ থাকার কথা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে বনলতা হলের প্রভোস্ট সানজিদা হক জানান, সকালে দুই হলের প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টরা নিরাপত্তাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং উপাচার্যের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। উপাচার্য আগামী সপ্তাহের মধ্যে হলের চারপাশে দেয়াল নির্মাণ এবং হলের বাইরে নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য কক্ষের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন। দায়িত্বে অবহেলার কারণে একজন নিরাপত্তাকর্মীকে শাস্তির আওতায় আনা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
অপরাজিতা হলের প্রভোস্ট রেহানা পারভীন বলেন, নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের বাঁশি দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা বাঁশি বা ঘণ্টা বাজিয়ে সবাইকে সতর্ক করতে পারেন। এছাড়া হলের বাকি অংশের প্রাচীর নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত আলোর জন্য হ্যালোজেন লাইট লাগানোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপাচার্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর গোলাম সরওয়ার বলেন, প্রক্টরিয়াল বডি সরেজমিনে বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। কার কী ভুল রয়েছে, তা তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...