বিজ্ঞাপন
আর কিছুদিন পরেই যখন শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে, তখন শুরু হবে খেজুর গাছের বুক চিরে সুস্বাদু রস সংগ্রহ। সেই কাঙ্ক্ষিত রস ও গুড় তৈরির লক্ষ্যে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ঝোপঝাড়, ভিটেমাটি, জমির আইল, রাস্তার ধার ও বসতবাড়ির আঙিনায় বেড়ে ওঠা খেজুর গাছগুলোর নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা।
উপজেলার আড়ংগাইল গ্রামের গাছি মো. হাকিম জানান, শীতের শুরুতেই এলাকার খেজুর গাছ মালিকদের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী গাছপ্রতি ৩ কেজি থেকে সাড়ে ৩ কেজি গুড়ের বিনিময়ে গাছগুলো লিজ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে গাছের ডালপালা কেটে পরিষ্কার করা হচ্ছে, যাতে শীতের মাত্রা বাড়ার সাথে সাথেই রস সংগ্রহ করে উন্নতমানের পাটালি ও ঝোলা গুড় তৈরি করা যায়।
রস সংগ্রহকারী অপর গাছি বাহাদুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, “এখন আর আগের মতো পর্যাপ্ত খেজুর গাছ পাওয়া যায় না। একেকজন গাছি গড়ে ২০ থেকে ৩০টির মতো গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে পারেন। এর মধ্যে দু-একজনের নিজের কিছু গাছ থাকলেও বাকি সবাইকে অন্যের গাছ লিজ নিয়েই রস সংগ্রহ করতে হয়।”
গাছি শাহজাহান আলী এই পেশার ঝুঁকি ও কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন, “খেজুরের রস সংগ্রহ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। বিশেষ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ছাড়া যে কেউ এই কাজ করতে পারেন না। বিশেষ করে সংগৃহীত রস জ্বাল দিয়ে লালি বা গুড় তৈরি করা খুবই কষ্টসাধ্য। তা সত্ত্বেও সংসারের নিত্যদিনের ব্যয়ভার মেটাতে সব কষ্ট উপেক্ষা করে আমরা ঐতিহ্যবাহী এই পেশা ধরে রেখেছি।”
একই গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস আলী জানান, প্রতি বছর রাজশাহীর বাঘা এবং নাটোরের লালপুর এলাকা থেকেও অনেক গাছি এসে তাড়াশের বিভিন্ন এলাকার খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। এই রস দিয়ে তৈরি করা খাঁটি লালি গুড় ও পাটালি গুড় স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর দেশের অন্যান্য জেলায়ও সরবরাহ করা হয়।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা হযরত আলী বলেন, “খেজুর গাছ অত্যন্ত লাভজনক একটি সম্পদ। রাস্তার ধার, পতিত জমি কিংবা যেকোনো অনাবাদি জায়গায় এ গাছ সহজে জন্মায়। খেজুর গাছ থেকে একদিকে যেমন সুস্বাদু রস, লালি ও গুড় পাওয়া যায়, অন্যদিকে মেটে প্রচুর পরিমাণ জ্বালানি। কৃষকেরা পরিত্যক্ত জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খেজুর বাগান গড়ে তুললে গুড় উৎপাদন করে আরও বেশি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...