সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ১৬ জন আসামির বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন। বিচারিক প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে ঘোষিত এটি প্রথম রায়, যা বিচার বিভাগে একটি ঐতিহাসিক নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রায় ঘোষণার সময় বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। তাঁদের উপস্থিতিতেই সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ করেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।
অপরদিকে পলাতক থাকা আটজনের মধ্যে রয়েছেন— ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন এবং আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনিসহ আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে সাতজন নিহত হন। পরবর্তীতে তাঁদের মরদেহ একটি ভ্যানে স্তূপ করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নিহতরা হলেন— সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।
গত বছরের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালে উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।
প্রসিকিউশন গত ২ জুলাই ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার তথ্যসূত্র, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং দুটি পেনড্রাইভ সংযুক্ত করা হয়। গত ১ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, এ ধরনের নিষ্ঠুর ও অমানবিক অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাই আইনের মূল উদ্দেশ্য।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই রায়ের মাধ্যমে শহীদ পরিবারের দীর্ঘদিনের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।
অন্যদিকে নিহতদের স্বজনরা পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...