Logo Logo

সুনামগঞ্জে নিখোঁজের ৫ দিন পর ঠেলাগাড়ি চালকের মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য


Splash Image

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর এক ঠেলাগাড়ি চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের তেরানগর গ্রামের কাছে দোলতা নদী সেতুর দক্ষিণ পাশে জামালগঞ্জ–নওমৌজা পাকা সড়কের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


নিহত আব্দুল হামিদ (৪৮) জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের তেলিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আয়ান উল্লাহর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঠেলাগাড়ি চালক ছিলেন। স্থানীয় বাজারে বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামালগঞ্জ–নওমৌজা পাকা সড়কটি ফেনারবাঁক ও ভীমখালী ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার বিকেল পর্যন্ত সড়কের পাশে কোনো মরদেহ দেখা যায়নি। তবে বৃহস্পতিবার সকালে পথচারীরা সড়কের পূর্ব পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে বিষয়টি স্থানীয়দের জানান।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামানকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে অজ্ঞাতনামা হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পরবর্তীতে নিহতের স্ত্রী ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি শনাক্ত করেন। এতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে মৃত ব্যক্তি তেলিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদ, যিনি কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।

ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলেন, “আমার ধারণা, অন্য কোথাও হত্যা করা বা মৃত্যুর পর মরদেহটি এখানে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে। কারণ এটি একটি ব্যস্ত সড়ক। প্রতিদিন শত শত মানুষ এ পথে চলাচল করে। বুধবার বিকেল পর্যন্ত কারও নজরে মরদেহটি পড়েনি। সম্ভবত রাতে কেউ মরদেহটি এখানে ফেলে গেছে।”

তিনি আরও জানান, পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় নিহত ব্যক্তি জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের তেলিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।

এ বিষয়ে জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বন্দে আলী বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তেরানগর গ্রামের দোলতা নদী সেতুর দক্ষিণ পাশের এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিখোঁজের কয়েকদিন পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যেও এ ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...