বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার ওই তরুণীর সঙ্গে ভৈরব নামের এক যুবকের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়। একপর্যায়ে দেখা করার জন্য ভৈরব তরুণীকে সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসতে বলেন। নির্ধারিত সময়ে সেখানে উপস্থিত হলে ভৈরব তার সঙ্গে দেখা করেন। তবে কথোপকথনের এক পর্যায়ে ভিন্ন ধর্মের পরিচয় দিয়ে ভৈরব ওই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে অস্বীকৃতি জানান।
এ সময় ভৈরবের সঙ্গে থাকা তার বন্ধু সিএনজি চালক সোহেল মিয়ার সঙ্গে তরুণীর পরিচয় হয়। পরে সোহেল মিয়া তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সোহেল মিয়া তরুণীকে সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার ওয়েজখালি এলাকায় তার বাসায় নিয়ে যান। সেখানে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ দিন তাকে আটকে রাখা হয়। এ সময় সোহেল মিয়া ওই তরুণীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর গত ১ মার্চ সোহেল মিয়ার মায়ের সঙ্গে ওই তরুণীর কথাকাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। ঘটনার পর সোহেল মিয়া তরুণীকে তার বন্ধু এরশাদের বাসায় রেখে সিলেটে চলে যান। সেখানে কিছুদিন থাকার পর তরুণী বাড়িতে ফিরে যেতে চাইলে এরশাদ ও তার সহযোগী মাসুম মিয়া তাকে সিলেটে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেয়।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, তারা তরুণীকে সিলেটে নিয়ে না গিয়ে সুনামগঞ্জের বিশম্ভরপুর থানাধীন পলাশ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে মাসুম মিয়ার সহায়তায় সিএনজি অটোরিকশার ভেতরেই দিনদুপুরে জোরপূর্বক তরুণীকে ধর্ষণ করে এরশাদ। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তরুণীকে উদ্ধার করা হয় এবং চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নেওয়া হয়। পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। মামলার তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার বাঁধনপাড়া এলাকার সোহেল মিয়া (৩০), গণিপুর এলাকার মো. এরশাদ (৩৪) এবং বড়পাড়া এলাকার মাসুম মিয়া (২৫)।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাতক চাকমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও ভুক্তভোগী তরুণীর আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে থানায় উপস্থিত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...