বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা বাড়ার সাথে সাথে সৈকতে পর্যটকের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। কেউ সমুদ্রের নোনা জলে সাঁতার কাটছেন, কেউ প্রিয়জনের সাথে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন, আবার কেউ সৈকতের বেঞ্চে বসে উপভোগ করছেন প্রকৃতির স্নিগ্ধতা। সৈকতের লেম্বুর বন, শুঁটকি পল্লি, ঝাউবাগান, গঙ্গামতি ও বৌদ্ধ বিহারসহ প্রতিটি পর্যটন স্পটেই এখন দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি মিলিয়ে টানা ৯ দিনের দীর্ঘ অবকাশে কুয়াকাটা যেন এক রঙিন মেলায় পরিণত হয়েছে। যদিও ঈদের দিন আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় পর্যটকের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল, তবে দ্বিতীয় দিন সকাল থেকে আবহাওয়া অনুকূলে আসায় পাল্টে গেছে চিত্র। বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ছুটে এসেছেন সমুদ্রের সান্নিধ্যে।
বরিশাল থেকে আসা রিফাত-রিংকি দম্পতি জানান, সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা তাদের কাছে সবসময়ই বিশেষ অনুভূতির। এখানকার পরিবেশ যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
পর্যটকদের এই ঢলে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইমরান জানান, রোজার এক মাস পর্যটক না থাকায় বেচাকেনা বন্ধ ছিল, তবে ঈদের এই ছুটিতে ভালো আয়ের আশা করছেন তারা। কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ জানান, ইতিমধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ হোটেল বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সহায়তায় তাদের বিশেষ টহল টিম মাঠে কাজ করছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, “সৈকতের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি থানা, নৌ ও ডিবি পুলিশও দায়িত্ব পালন করছে যাতে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।”
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসিন সাদিক জানান, এবারের লম্বা ছুটিতে পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...