বিজ্ঞাপন
২০১৩ সালের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন নাসিমা। টানা ৭২ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ফিরে আসা সেই নাসিমা এবার আর ভাগ্যকে সহায় পাননি। দুর্ঘটনার ছয় ঘণ্টা পর পদ্মা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার নিথর দেহ। জীবিকার যুদ্ধের এই ‘নিঃসঙ্গ শেরপা’ অবশেষে হার মানলেন প্রকৃতির কাছে।
নাসিমা বেগম (৪০) দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জীবিকার সন্ধানে তিনি ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাসায় গিয়েছিলেন। দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পরও চাকরি না পেয়ে ঈদ উপলক্ষে ভাগনির শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ বুধবার বিকেলে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান বাসে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ সময় আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মর্মান্তিক এই ঘটনার পর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথেও বিপত্তি ঘটে। কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হলেও বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
এদিকে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন নিহত নাসিমার বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিতে আবারও ঢাকামুখী হয়েছিলেন নাসিমা। কিন্তু এক সময়ের সেই বিভীষিকা থেকে বেঁচে ফেরা মানুষটির জীবনপ্রদীপ এবার নিভে গেল পদ্মার শীতল জলে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...