বিজ্ঞাপন
টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত নৌযান ও সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণ করা যায় এবং এটি ১,০০০ মাইলেরও বেশি দূরে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। আধুনিক জিপিএস ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ এই ক্ষেপণাস্ত্রের বর্তমান উৎপাদন হার বছরে মাত্র কয়েকশ। ফলে যে হারে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই তুলনায় পুনর্ভরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন 'উইনচেস্টার'-এর কাছাকাছি—যা সামরিক পরিভাষায় গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাওয়ার অবস্থাকে বোঝায়।
প্রতিটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের নির্মাণ খরচ প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন ডলার এবং এটি তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে। উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে পেন্টাগনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হলেও তাৎক্ষণিকভাবে এর জোগান বাড়ানো কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে যে হারে ক্ষেপণাস্ত্র খরচ হচ্ছে, তা পূরণ করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে অন্য কোনো বড় সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
এদিকে, মার্কিন কংগ্রেসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'থাড' (THAAD)-এর মোট মজুতের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহের সংঘাতে বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক থাড রাডার সিস্টেম ধ্বংস হয়ে গেছে, যা পুনস্থাপন করা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। এর ফলে পারস্য উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে আরও অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরান পরিকল্পিতভাবে ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হানার পর এখন তাদের মূল লক্ষ্য হলো মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার উৎপাদনকারী স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা।
পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে গোলাবারুদের ঘাটতির কথা অস্বীকার করলেও অভ্যন্তরীণভাবে কর্মকর্তাদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...