বিজ্ঞাপন
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে নোয়াখালীর চাটখিলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পরদিন থেকেই সর্বোচ্চ সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারকে চাপে রাখা ভালো, যাতে তারা জনগণের পক্ষে কাজ করে, এটাই গণতন্ত্রের নিয়ম। তবে যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রথম ১৮০ দিন কোনো নতুন সরকারকে মূল্যায়নের আওতায় ধরা হয় না। আমাদের সরকার সেই ন্যূনতম সময়টুকুও পায়নি, তবুও আমরা কোনো অভিযোগ করছি না।
নিজের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি নিজে একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে সরাসরি দেখছি যে, বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের এক বিশাল জঞ্জাল এই প্রশাসনিক সিস্টেমের মধ্যে ঢুকে গেছে। এই জঞ্জাল পরিষ্কার করে দেশকে অভীষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের কিছুটা সময় দিতে হবে।
বক্তব্যে বিগত সরকারের আমলে অনেক অ-মুক্তিযোদ্ধা ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের অন্যায়ভাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে একে প্রশ্নবিদ্ধ করার তীব্র সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত সতেরো বছরে স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার অনেক অ-মুক্তিযোদ্ধাদের, যারা মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন না অথবা মুক্তিযুদ্ধের সময় যাদের বয়স ছিল আট বছর, দশ বছর। তাদেরকেও অন্যায়ভাবে তারা মুক্তিযুদ্ধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই নিয়ে তালিকাটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে যখন মুক্তিযোদ্ধা শব্দটির সাথে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শব্দটি উচ্চারিত হয়, তখন আমার বুকটা ফেটে যায়। এটা আমরা সহ্য করতে পারি না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছি। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন ভালো নয়, তাই আমরা আর কোনো গণ্ডগোল বা গোলযোগ চাই না এবং ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সহ্য করছি। আমাদেরকে যদি আবারও প্রয়োজনে রাজপথে নামতে হয়, তাহলে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের রাজাকারমুক্ত করা মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রজন্মের পক্ষে কোন ব্যপার নয়।
২০২৪ সালের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানকে কোনো একক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানানোর চেষ্টার বিরোধিতা করে ইশরাক হোসেন বলেন, এটি ছিল ছাত্র, জনতা, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত আন্দোলন। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সকলের রক্তেই এই আন্দোলনের ঐতিহাসিক ভিত্তি রচিত হয়েছে।
পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ কোনো বিদেশি শক্তির কাছে মাথা নত করবে না এবং "দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোন দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ" এই নীতি বুকে ধারণ করে দেশকে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট সমাজসেবক পরান চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার মনীশ দাস, চাটখিল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট আবু হানিফ, পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক মেয়র মোস্তফা, সদস্য সচিব আহসানুল হক মাসুদ, শামসুল আরেফিন শামিম, চাটখিল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুল মুন্নাফ প্রমূখ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...