বিজ্ঞাপন
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, পাচারকারীরা অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তাদের তুলে দেয়। যাত্রার কয়েকদিন পর খাবার ও পানির সংকট দেখা দিলে যাত্রীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে অনেকে মৃত্যুবরণ করেন। পরে পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চারজন রয়েছেন বলে স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন—তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫) এবং রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৩৮)।
নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, দিরাইয়ের তারাপাশা গ্রামের মুজিবুর রহমান নামের এক মানবপাচারকারীর সঙ্গে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে তারা গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। নিরাপদ নৌযানের প্রতিশ্রুতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়, যার ফলে এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে।
এ ঘটনায় দিরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এই নৃশংস ঘটনার সাথে জড়িত মানবপাচার চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জিব সরকার জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ সরাসরি যোগাযোগ না করলেও স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি চারজন নিহত হওয়ার তথ্য পেয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, বিষয়টি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের কাজ চলছে।
সচেতন মহলের মতে, অবৈধ পথে অভিবাসন রুখতে মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...