Logo Logo

ঐতিহ্য হারাচ্ছে চাটখিলের শতবর্ষী কালিয়াতল মেলা, দখলে যাচ্ছে মেলার মাঠ


Splash Image

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী কালিয়াতল মেলা ক্রমেই হারাচ্ছে তার জৌলুস ও ঐতিহ্য। বর্তমানে মেলার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে শুধু একটি বটগাছ, যার নিচে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন কালীপূজা করে বছরের কার্যক্রম শুরু করেন।


বিজ্ঞাপন


চাটখিল উপজেলার ৯নং খিলপাড়া ইউনিয়নের খিলপাড়া-দেলিয়াই সড়কের পাশে, খিলপাড়া বাজার থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে শংকরপুর গ্রামে এই মেলার অবস্থান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শতবর্ষেরও বেশি সময় ধরে প্রতি বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে এখানে বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

একসময় এই মেলা ছিল এলাকাবাসীর অন্যতম প্রধান উৎসব। চাটখিলের দক্ষিণাঞ্চল, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এখানে এসে পূজা দিতেন। একজন পুরোহিতের মাধ্যমে পূজা পরিচালিত হতো এবং মেলা ঘিরে বসত নানা ধরনের দোকানপাট। বিশেষ করে মাটির তৈরি সামগ্রী ছিল এ মেলার প্রধান আকর্ষণ। মেলায় আগত মানুষজন মাটির হাঁড়িতে মুড়ি ও জিলাপি নিয়ে বাড়ি ফিরতেন। ভোরবেলা ঢোলের শব্দে মুখরিত হতো পুরো এলাকা।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেলার সেই ঐতিহ্য বিলীন হতে শুরু করেছে। অভিযোগ রয়েছে, মেলার নির্ধারিত জমির বড় একটি অংশ স্থানীয় জমির মালিকরা দখল করে নিয়েছেন এবং সেখানে সুপারি গাছসহ বিভিন্ন গাছপালা রোপণ করেছেন। ফলে মেলার পরিধি সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

মেলার পাশের কুরিবাড়ীর লোকজন একসময় এ আয়োজনের তত্ত্বাবধান করলেও বর্তমানে তারা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ায় মেলার দেখভাল করার মতো কেউ নেই। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন বা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও নেই কোনো কার্যকর উদ্যোগ বা নিয়ন্ত্রণ।

প্রবীণ শিক্ষক ব্রজলাল দাস জানান, মেলাটি ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও তার ধারণা, এটি ব্রিটিশ আমল থেকেই চলে আসছে। অপরদিকে, বৃদ্ধ শফিক উল্লাহ বলেন, ছোটবেলা থেকে তিনি এই মেলা দেখে আসছেন, তবে আগের মতো এখন আর মেলার জমজমাট পরিবেশ নেই। দোকানপাটও তেমন বসে না, কমে গেছে মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বখাটেদের উৎপাতের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থী, বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি কমে গেছে। ফলে মেলার প্রাণচাঞ্চল্য অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

খিলপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী ও বিএনপির নেতা মনির হোসেন বলেন, মেলার ঐতিহ্য রক্ষা ও পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানীয় সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, যথাযথ উদ্যোগ ও তদারকির মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী কালিয়াতল মেলাকে আবারও তার আগের রূপে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...