বিজ্ঞাপন
চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সন্ধ্যার পরপরই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। পরীক্ষার্থীরা জানায়, দিনের বেলা অসহ্য গরমের কারণে টেবিলে বসা দুষ্কর হয়ে পড়ে, আর রাতে লোডশেডিংয়ের ফলে মোমবাতি বা হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ স্বল্প আলোয় পড়ার কারণে তারা চোখে ও মাথাব্যথাসহ শারীরিক বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছে।
গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় তারা এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন। জেলা শহরের তুলনায় মুকসুদপুর, কাশিয়ানী, কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনেক এলাকায় দিনে ও রাতে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। শহরের লোহাপট্টি, কাঁচাবাজার ও বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে ফ্রিজে রাখা পচনশীল পণ্য নষ্ট হচ্ছে এবং ডিজিটাল মেশিনে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এছাড়া কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন শিল্প উদ্যোক্তারা।
কৃষিপ্রধান এই জেলায় সেচ কাজেও মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। কৃষকদের মতে, সেচ পাম্পগুলো ঠিকমতো চালাতে না পারায় বোরোসহ অন্যান্য ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে চলতি মৌসুমে ফসলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষার দিনগুলোতে অন্তত রাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...